ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

মাদারীপুরে মহাসড়কে ৩ ধরে ঘণ্টা সংঘর্ষ, অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুরে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক আটকে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সদর উপজেলার মস্তফাপুরের গোল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। 

এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়টি দোকান ও চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সংঘর্ষের কারণে মাদারীপুর-চাঁদপুর-শরীয়তপুর মহাসড়ক ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে তীব্র যানজট তৈরি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মস্তফাপুর গোল চত্বর এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাবিব হাওলাদার, ইদ্রিস হাওলাদারের সঙ্গে শামসু সরদার ওরফে কোপা শামসুর আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হন শামসু সরদার। তিনি জামিনে বের হয়ে হাওলাদার বংশের এক কিশোরকে আজ সকালে মারধর করেন। এরই জেরে বিকালে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। উভয় পক্ষের ছয়টি দোকান ও চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতারা ও কৃষক দলের সদস্যসচিব অহিদুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আহত ১০ জনকে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার বলেন, ‘শামসু সরদার এলাকায় সন্ত্রাসীদের লালন পালন করেন। তার কারণেই আজ এই রণক্ষেত্র। তিনি নিজে বোমা তৈরি করেন, মাদকের ব্যবসা করেন। তাকে ধরতে পুলিশও ভয় পায়। তার বিরুদ্ধে খুন, মাদক, ডাকাতিসহ ১২টি মামলা আছে। সম্প্রতি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। জামিনে বের হয়ে আমাদের হুমকি দিতে থাকেন। আজ শামসু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালালে আমাদের লোকজন তা প্রতিহত করেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামসু সরদার বলেন, ‘হাওলাদার বংশের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেছে। বিষয়টি পুলিশকে বলেছি। পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের পাল্টা জবাব দিয়েছি আমরা।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‌‘উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তারা পুলিশের দিকে হাতবোমা নিক্ষেপ করে। তারা কেউ আইন মানছে না। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে শান্ত থাকতে বলেছে। এ ঘটনায় যারা দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে, যারা হামলা-ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে মহাসড়কে ৩ ধরে ঘণ্টা সংঘর্ষ, অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ

আপডেট সময় : ১০:২৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

মাদারীপুরে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক আটকে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সদর উপজেলার মস্তফাপুরের গোল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। 

এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়টি দোকান ও চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সংঘর্ষের কারণে মাদারীপুর-চাঁদপুর-শরীয়তপুর মহাসড়ক ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে তীব্র যানজট তৈরি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মস্তফাপুর গোল চত্বর এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাবিব হাওলাদার, ইদ্রিস হাওলাদারের সঙ্গে শামসু সরদার ওরফে কোপা শামসুর আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হন শামসু সরদার। তিনি জামিনে বের হয়ে হাওলাদার বংশের এক কিশোরকে আজ সকালে মারধর করেন। এরই জেরে বিকালে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। উভয় পক্ষের ছয়টি দোকান ও চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতারা ও কৃষক দলের সদস্যসচিব অহিদুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আহত ১০ জনকে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার বলেন, ‘শামসু সরদার এলাকায় সন্ত্রাসীদের লালন পালন করেন। তার কারণেই আজ এই রণক্ষেত্র। তিনি নিজে বোমা তৈরি করেন, মাদকের ব্যবসা করেন। তাকে ধরতে পুলিশও ভয় পায়। তার বিরুদ্ধে খুন, মাদক, ডাকাতিসহ ১২টি মামলা আছে। সম্প্রতি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। জামিনে বের হয়ে আমাদের হুমকি দিতে থাকেন। আজ শামসু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালালে আমাদের লোকজন তা প্রতিহত করেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামসু সরদার বলেন, ‘হাওলাদার বংশের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেছে। বিষয়টি পুলিশকে বলেছি। পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের পাল্টা জবাব দিয়েছি আমরা।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‌‘উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তারা পুলিশের দিকে হাতবোমা নিক্ষেপ করে। তারা কেউ আইন মানছে না। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে শান্ত থাকতে বলেছে। এ ঘটনায় যারা দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে, যারা হামলা-ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’