জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফ সোহেল পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার এক দীর্ঘ লিখিত বিবৃতিতে তিনি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিবৃতিতে আরিফ সোহেল জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি প্রথাগত রাজনৈতিক দলের বাইরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধ্যয়নের সময়ে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের সংগঠিত করে বিকল্প রাজনৈতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে ‘মুক্তিফোরাম’ এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ছাত্র রাজনীতির কাঠামো ও স্বাধীন ছাত্র সংগঠন গঠনের প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে আরিফ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন থেকে সরে আসেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরুণ নেতাদের উদ্যোগে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’র সঙ্গে যুক্ত হন। জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর পর তিনি ও তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশে একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর উত্থান দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। নেগোশিয়েটেড সেটেলমেন্টের মাধ্যমে পুরনো ক্ষমতার কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন গণরাজনীতি গড়ে তোলার সুযোগ নষ্ট হয়েছে।
আরিফ সোহেল অভিযোগ করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আপসরফার পথে এগিয়ে গেছে, যা নতুন রাজনৈতিক ধারা নির্মাণের লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই বাস্তবতায় প্রথাগত রাজনৈতিক দলের বাইরে গিয়ে পুনরায় গণমানুষের কাতারে দাঁড়ানোই তার ও তার সহকর্মীদের কর্তব্য বলে তিনি মনে করেন।
এসব কারণ উল্লেখ করে আরিফ সোহেল জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় কমিটির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে তিনি তার সাবেক দল ও সহকর্মীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তারা ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক চর্চার পথে ফিরে আসবেন বলে জানান।
রিপোর্টারের নাম 






















