ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জেলায় জেলায় শোকাবহ পরিবেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ। রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি শোক জানিয়েছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। এর মধ্যে বিশেষ করে বগুড়া, ফেনী, দিনাজপুরের মানুষ ও নেতাকর্মীরা শোকে কাতর।

শোকে কাতর দিনাজপুরবাসী

দিনাজপুরের কন্যা, দিনাজপুরেই বেড়ে ওঠা। এই জেলার মানুষের প্রতি ছিল অপরিসীম ভালোবাসা। সেই প্রিয় নেত্রীকে হারিয়ে শোকে কাতর জেলার মানুষ। এই জনপদে কেটেছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব-কৈশোর। পড়াশোনাও এই জেলাতে। উত্তরের জেলা দিনাজপুরের মানুষ ‘খালেদা জিয়া’ হিসেবে নয়, তাকে ‘খালেদা খানম পুতুল’ নামেই বেশি চেনেন। সেই পুতুলকে হারিয়ে শোকে কাতর দিনাজপুরবাসী স্মৃতিচারণ করে চোখের জল মুছছে বারবার। শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন দিনাজপুরের সব শ্রেণির মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে দেশের তো বটেই, দিনাজপুরেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো।

মৃত্যুর পরপরই সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ে কোরআন তিলাওয়াতের আয়োজন করা হয়। তার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করে, নেতারা তার যে স্বপ্ন তা পূরণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। খালেদা জিয়া দিনাজপুর-৩ আসন থেকে এবার প্রার্থী হয়েছিলেন। এ নিয়ে ছিল নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। তবে তার মৃত্যুর সংবাদে তা নিমিষেই ম্লান হয়ে গেছে।

দোয়ার আয়োজন করেছেন নেতাকর্মীরা দোয়ার আয়োজন করেছেন নেতাকর্মীরা

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দিনাজপুরের তথা বাংলাদেশের যে ক্ষতি হলো তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন এবং ব্যাপক উন্নয়ন করবেন এমন আশা ছিল আমাদের। কিন্তু তার মৃত্যুতে আমাদের শোকের অন্ত নেই। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।’

ফেনীর মজুমদার বাড়িতে কান্নার রোল

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে তার পৈতৃক জনপদ ফেনী। ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে এখন কান্নার রোল। নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা আর হাহাকার। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পৈতৃক বাড়িতে ভেঙে পড়েন স্বজনরা। বাড়ির নারী সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কেউ কেউ বলছিলেন, ‘এবারও তিনি আসবেন—এই আশাটুকু নিয়েই তো আমরা বেঁচে ছিলাম।’

সকাল থেকেই একে একে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা। অনেককে চোখের জল মুছতে মুছতে বাড়ির আঙিনায় বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ নীরবে কাঁদছেন, কেউ আবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভেঙে পড়ছেন কান্নায়।

পৈতৃক বাড়িতে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআন তিলাওয়াত, কোরআনখানি ও দোয়া-দরুদ পাঠ করা হয়েছে। পাশের মসজিদগুলোর মাইকে শোকবার্তা প্রচার করা হয় এবং বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

বাড়ির একজন বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজন বলেন, ‘এই বাড়িটাই ছিল তার শেকড়। তিনি যত বড় মানুষই হোন না কেন, এখানে এলে একেবারে আপন হয়ে যেতেন। আজ সেই আপন মানুষটাই চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।’

দলীয় নেতাকর্মীরাও শোক সামলাতে পারছেন না। ফুলগাজী ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা বিএনপি নেতারা বলেন, ‘ফেনীর মানুষ একজন অভিভাবককে হারালো। তিনি শুধু দলের চেয়ারপারসন ছিলেন না, ছিলেন আমাদের সাহস ও ভরসার প্রতীক।’

ফেনীর মজুমদার বাড়িতে কান্নার রোলফেনীর মজুমদার বাড়িতে কান্নার রোল

খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ফেনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর ও আবেগঘন। আজ সেই সম্পর্কই শোকে পরিণত হয়ে কাঁদছে একটি জনপদ, একটি বাড়ি, অসংখ্য মানুষ।

জিয়াউর রহমানের বাড়িতে শোকের ছায়া

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুত্রবধূর মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝ গভীর শোক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গাবতলীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জড়ো হয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শোকাহত নেতাকর্মীরা এ মৃত্যুকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন।

গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর মৃত্যুতে তারা একজন অভিভাবকতুল্য নেত্রীকে হারালেন। তার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নতুন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনও বেগম খালেদা জিয়া আসবে না। তার মৃত্যুর খবরে গাবতলীবাসী গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

জিয়াউর রহমানের বাড়িতে শোকের ছায়াজিয়াউর রহমানের বাড়িতে শোকের ছায়া

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ তার এক অবিচল অভিভাবককে হারালো। দেশপ্রেম, ত্যাগ ও আপসহীন নেতৃত্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিরকাল জাতির হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। তিনি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং সবার কাছে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

চসিক মেয়রের শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। এক শোকবার্তায় চসিক মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আজীবন দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন। দীর্ঘদিন দেশ ও জাতির জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শুধু বিএনপির নেত্রীই ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার মৃত্যুতে দেশ একজন মহান অভিভাবক ও অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে হারালো। আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

চাঁদপুরে কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চাঁদপুরের সব পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। জেলা বিএনপি কার্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া-মাহফিল ও শোক বইয়ে স্বাক্ষরসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে খালেদা জিয়ার প্রয়োজন ছিল অত্যন্ত বেশি।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘আপসহীন, নির্ভীক রাজনীতিক ও দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন তিনি। দেশ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না।’

দোয়া করছেন নেতাকর্মীরাদোয়া করছেন নেতাকর্মীরা

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি। সকালে প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শোক জানানো হয়।

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন আর রশিদ খান হাসান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্না জানান, খালেদা জিয়ার মতো নেত্রী এই দেশে আর আসবে না। তিনি দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মানুষ খালেদা জিয়াকে মনে রাখবে। আজ একজন নক্ষত্রের বিদায় হলো। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এই দোয়া করি। 

শোকে স্তব্ধ রাঙামাটি বিএনপি

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ রাঙামাটি বিএনপি পরিবার। সকালে মৃত্যুর খরব ছড়িয়ে পড়তেই শত শত নেতাকর্মী ভিড় করেন কাঠালতলীর দলীয় কার্যালয়ে। দলীয় কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা। নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকেও কালো ব্যাচ ধারণ করতে দেখা গেছে। সাত দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সব মসজিদে বাদ আসর দোয়া ও অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দলের প্রয়োজনে রাজনীতি শুরু করেছিলেন খালেদা জিয়া। হয়ে উঠেছে দেশের নেত্রী। বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়ে গেছেন। রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তার কখনও পূরণ হবে না।’

বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাঙামাটি আসেনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘আমি তার হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি প্রবেশ করি। রাজনীতির কঠিন সময়ে দেশ ও দলের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গণতন্ত্রের আন্দোলনের জন্য জীবনের কঠিন সময় পার করেছিলেন। কিন্তু ভালো সময় দেখে যেতে পারলেন না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির উদ্যাগে আলোচনা সভা, কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টায় শহরের পুনিয়াউট এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতির কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘বেগম জিয়া গণতন্ত্রের সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সংগ্রামী নেত্রীর চলে যাওয়া দেশের রাজনৈতিক অধ্যায়ের এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

বাকৃবি উপাচার্যের শোকবার্তা

খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। দুপুরে বাকৃবির জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতর প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শোকবার্তা জানানো হয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, আজ আমরা একজন সৎ, দৃঢ়চেতা ও দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ আপসহীন নেত্রীকে হারালাম। তিনি দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন, যা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শোকাহত যশোর বিএনপি

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা। যশোর শহরের লালদিঘীর পাড় জেলা বিএনপির কার্যালয় এলাকাজুড়ে শত শত মানুষ। তবে আর দশটা দিনের মতো এদিন স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল কিংবা মঞ্চে কেউ বক্তৃতায় রাজনীতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছিলেন না। দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছায়া। কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে, কেউ চোখ মুছছিলেন। এই শোক, এই চুপচাপ খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে। যশোরের বিএনপির পার্টি অফিসে নেতাকর্মী, সবাই মিলিয়ে জায়গাটি পরিণত হয় শোক, নীরবতা ও আবেগের এক প্রাঙ্গণে।

যশোর শহরের লালদিঘীর পাড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলনযশোর শহরের লালদিঘীর পাড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন

দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করেন। এর আগে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন দলীয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে শোক বই রাখা হয়েছে। অধ্যাপক নার্গিস বেগম নিজে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া জেলা বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা প্রয়াত নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি। তিনি কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। এটি দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই নেত্রীকে যারা দীর্ঘদিন কষ্ট দিয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে তাদের বিচার আল্লাহ করবেন। ইতিহাস তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

জামালপুরে দোয়া মাহফিল

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জামালপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকালে শহরের স্টেশন রোডে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘খালেদা জিয়া কখনও আপস করেননি। তার মৃত্যু বাংলাদেশ ও রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আজ দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের সাধারণ মানুষ গভীরভাবে শোকাহত।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জেলায় জেলায় শোকাবহ পরিবেশ

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ। রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি শোক জানিয়েছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। এর মধ্যে বিশেষ করে বগুড়া, ফেনী, দিনাজপুরের মানুষ ও নেতাকর্মীরা শোকে কাতর।

শোকে কাতর দিনাজপুরবাসী

দিনাজপুরের কন্যা, দিনাজপুরেই বেড়ে ওঠা। এই জেলার মানুষের প্রতি ছিল অপরিসীম ভালোবাসা। সেই প্রিয় নেত্রীকে হারিয়ে শোকে কাতর জেলার মানুষ। এই জনপদে কেটেছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব-কৈশোর। পড়াশোনাও এই জেলাতে। উত্তরের জেলা দিনাজপুরের মানুষ ‘খালেদা জিয়া’ হিসেবে নয়, তাকে ‘খালেদা খানম পুতুল’ নামেই বেশি চেনেন। সেই পুতুলকে হারিয়ে শোকে কাতর দিনাজপুরবাসী স্মৃতিচারণ করে চোখের জল মুছছে বারবার। শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন দিনাজপুরের সব শ্রেণির মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে দেশের তো বটেই, দিনাজপুরেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো।

মৃত্যুর পরপরই সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ে কোরআন তিলাওয়াতের আয়োজন করা হয়। তার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করে, নেতারা তার যে স্বপ্ন তা পূরণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। খালেদা জিয়া দিনাজপুর-৩ আসন থেকে এবার প্রার্থী হয়েছিলেন। এ নিয়ে ছিল নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। তবে তার মৃত্যুর সংবাদে তা নিমিষেই ম্লান হয়ে গেছে।

দোয়ার আয়োজন করেছেন নেতাকর্মীরা দোয়ার আয়োজন করেছেন নেতাকর্মীরা

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দিনাজপুরের তথা বাংলাদেশের যে ক্ষতি হলো তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন এবং ব্যাপক উন্নয়ন করবেন এমন আশা ছিল আমাদের। কিন্তু তার মৃত্যুতে আমাদের শোকের অন্ত নেই। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।’

ফেনীর মজুমদার বাড়িতে কান্নার রোল

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে তার পৈতৃক জনপদ ফেনী। ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে এখন কান্নার রোল। নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা আর হাহাকার। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পৈতৃক বাড়িতে ভেঙে পড়েন স্বজনরা। বাড়ির নারী সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কেউ কেউ বলছিলেন, ‘এবারও তিনি আসবেন—এই আশাটুকু নিয়েই তো আমরা বেঁচে ছিলাম।’

সকাল থেকেই একে একে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা। অনেককে চোখের জল মুছতে মুছতে বাড়ির আঙিনায় বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ নীরবে কাঁদছেন, কেউ আবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভেঙে পড়ছেন কান্নায়।

পৈতৃক বাড়িতে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআন তিলাওয়াত, কোরআনখানি ও দোয়া-দরুদ পাঠ করা হয়েছে। পাশের মসজিদগুলোর মাইকে শোকবার্তা প্রচার করা হয় এবং বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

বাড়ির একজন বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজন বলেন, ‘এই বাড়িটাই ছিল তার শেকড়। তিনি যত বড় মানুষই হোন না কেন, এখানে এলে একেবারে আপন হয়ে যেতেন। আজ সেই আপন মানুষটাই চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।’

দলীয় নেতাকর্মীরাও শোক সামলাতে পারছেন না। ফুলগাজী ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা বিএনপি নেতারা বলেন, ‘ফেনীর মানুষ একজন অভিভাবককে হারালো। তিনি শুধু দলের চেয়ারপারসন ছিলেন না, ছিলেন আমাদের সাহস ও ভরসার প্রতীক।’

ফেনীর মজুমদার বাড়িতে কান্নার রোলফেনীর মজুমদার বাড়িতে কান্নার রোল

খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ফেনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর ও আবেগঘন। আজ সেই সম্পর্কই শোকে পরিণত হয়ে কাঁদছে একটি জনপদ, একটি বাড়ি, অসংখ্য মানুষ।

জিয়াউর রহমানের বাড়িতে শোকের ছায়া

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুত্রবধূর মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝ গভীর শোক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গাবতলীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জড়ো হয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শোকাহত নেতাকর্মীরা এ মৃত্যুকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন।

গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর মৃত্যুতে তারা একজন অভিভাবকতুল্য নেত্রীকে হারালেন। তার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নতুন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনও বেগম খালেদা জিয়া আসবে না। তার মৃত্যুর খবরে গাবতলীবাসী গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

জিয়াউর রহমানের বাড়িতে শোকের ছায়াজিয়াউর রহমানের বাড়িতে শোকের ছায়া

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ তার এক অবিচল অভিভাবককে হারালো। দেশপ্রেম, ত্যাগ ও আপসহীন নেতৃত্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিরকাল জাতির হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। তিনি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং সবার কাছে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

চসিক মেয়রের শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। এক শোকবার্তায় চসিক মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আজীবন দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন। দীর্ঘদিন দেশ ও জাতির জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শুধু বিএনপির নেত্রীই ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার মৃত্যুতে দেশ একজন মহান অভিভাবক ও অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে হারালো। আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

চাঁদপুরে কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চাঁদপুরের সব পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। জেলা বিএনপি কার্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া-মাহফিল ও শোক বইয়ে স্বাক্ষরসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে খালেদা জিয়ার প্রয়োজন ছিল অত্যন্ত বেশি।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘আপসহীন, নির্ভীক রাজনীতিক ও দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন তিনি। দেশ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না।’

দোয়া করছেন নেতাকর্মীরাদোয়া করছেন নেতাকর্মীরা

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি। সকালে প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শোক জানানো হয়।

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন আর রশিদ খান হাসান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্না জানান, খালেদা জিয়ার মতো নেত্রী এই দেশে আর আসবে না। তিনি দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মানুষ খালেদা জিয়াকে মনে রাখবে। আজ একজন নক্ষত্রের বিদায় হলো। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এই দোয়া করি। 

শোকে স্তব্ধ রাঙামাটি বিএনপি

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ রাঙামাটি বিএনপি পরিবার। সকালে মৃত্যুর খরব ছড়িয়ে পড়তেই শত শত নেতাকর্মী ভিড় করেন কাঠালতলীর দলীয় কার্যালয়ে। দলীয় কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা। নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকেও কালো ব্যাচ ধারণ করতে দেখা গেছে। সাত দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সব মসজিদে বাদ আসর দোয়া ও অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দলের প্রয়োজনে রাজনীতি শুরু করেছিলেন খালেদা জিয়া। হয়ে উঠেছে দেশের নেত্রী। বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়ে গেছেন। রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তার কখনও পূরণ হবে না।’

বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাঙামাটি আসেনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘আমি তার হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি প্রবেশ করি। রাজনীতির কঠিন সময়ে দেশ ও দলের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গণতন্ত্রের আন্দোলনের জন্য জীবনের কঠিন সময় পার করেছিলেন। কিন্তু ভালো সময় দেখে যেতে পারলেন না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির উদ্যাগে আলোচনা সভা, কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টায় শহরের পুনিয়াউট এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতির কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘বেগম জিয়া গণতন্ত্রের সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সংগ্রামী নেত্রীর চলে যাওয়া দেশের রাজনৈতিক অধ্যায়ের এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

বাকৃবি উপাচার্যের শোকবার্তা

খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। দুপুরে বাকৃবির জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতর প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শোকবার্তা জানানো হয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, আজ আমরা একজন সৎ, দৃঢ়চেতা ও দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ আপসহীন নেত্রীকে হারালাম। তিনি দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন, যা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শোকাহত যশোর বিএনপি

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা। যশোর শহরের লালদিঘীর পাড় জেলা বিএনপির কার্যালয় এলাকাজুড়ে শত শত মানুষ। তবে আর দশটা দিনের মতো এদিন স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল কিংবা মঞ্চে কেউ বক্তৃতায় রাজনীতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছিলেন না। দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছায়া। কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে, কেউ চোখ মুছছিলেন। এই শোক, এই চুপচাপ খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে। যশোরের বিএনপির পার্টি অফিসে নেতাকর্মী, সবাই মিলিয়ে জায়গাটি পরিণত হয় শোক, নীরবতা ও আবেগের এক প্রাঙ্গণে।

যশোর শহরের লালদিঘীর পাড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলনযশোর শহরের লালদিঘীর পাড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন

দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করেন। এর আগে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন দলীয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে শোক বই রাখা হয়েছে। অধ্যাপক নার্গিস বেগম নিজে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া জেলা বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা প্রয়াত নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি। তিনি কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। এটি দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই নেত্রীকে যারা দীর্ঘদিন কষ্ট দিয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে তাদের বিচার আল্লাহ করবেন। ইতিহাস তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

জামালপুরে দোয়া মাহফিল

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জামালপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকালে শহরের স্টেশন রোডে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘খালেদা জিয়া কখনও আপস করেননি। তার মৃত্যু বাংলাদেশ ও রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আজ দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের সাধারণ মানুষ গভীরভাবে শোকাহত।’