ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

লোটো শোরুমের পরিচালককে হত্যা: মূল হোতা গাজীপুরে গ্রেফতার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় অনলাইন জুয়ার দ্বন্দ্বে লোটো শোরুমের পরিচালক পিন্টু আকন্দকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় মূল হোতা মোক্তার হোসেন (৩৫) গ্রেফতার হয়েছেন। র‌্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা র‌্যাব-১-এর সহযোগিতায় রবিবার রাতে তাকে গাজীপুরের টঙ্গি পূর্ব থানার স্টেশন রোড থেকে গ্রেফতার করেন।

র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট বিএন ওয়াহিদুজ্জামান মঙ্গলবার সকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছেন।

র‌্যাব ও মামলা সূত্র জানায়, নিহত পিন্টু আকন্দ (৩৮) গত তিন বছর ধরে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খন্দকার সুপার মার্কেটে সম্বন্ধি বাবুর লোটো শোরুমের পরিচালক ছিলেন। ২২ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৭ মিনিটের দিকে শোরুম বন্ধ করার সময় ৬-৭ জনের একদল দুর্বৃত্ত সেখানে প্রবেশ করে। তারা পিন্টু আকন্দকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাশের আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কোমরভোগ এলাকায় মাইক্রোবাসে তার স্কচটেপ দিয়ে মুখ পেঁচানো মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী সাবিনাজ ইয়াসমিন দুপচাঁচিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির সদস্যরা আসামি গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেন। তারা প্রধান আসামি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কনকাই গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে মোক্তার হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত করেন। ২৮ জুলাই রাত পৌনে ১১টার দিকে র‌্যাব-১-এর সহযোগিতায় গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। পরে তাকে দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোক্তার হোসেন জানান, অনলাইন জুয়া খেলার বিট কয়েন বিক্রির পাওনা ১০ লাখ টাকা নিয়ে পিন্টু আকন্দের সঙ্গে বিরোধে সৃষ্টি হয়। এ টাকা উদ্ধারে পরিকল্পনা অনুসারে পিন্টুকে শোরুম থেকে অপহরণ করে। মাইক্রোবাসের মধ্যে চিৎকার করলে আসামিরা তার নাকেমুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ফেলে রাখে। সে সময় শ্বাসরোধ হয়ে পিন্টু আকন্দ মারা যান।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, পিন্টু আকন্দ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সন্দিগ্ধ আসামি মো. সজীব (৩২) গ্রেফতার এড়াতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় আত্মগোপন করেন। সোমবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সজীব বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ডিম শহর গ্রামের শাহাবুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে। মঙ্গলবার তাকে দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোটো শোরুমের পরিচালককে হত্যা: মূল হোতা গাজীপুরে গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় অনলাইন জুয়ার দ্বন্দ্বে লোটো শোরুমের পরিচালক পিন্টু আকন্দকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় মূল হোতা মোক্তার হোসেন (৩৫) গ্রেফতার হয়েছেন। র‌্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা র‌্যাব-১-এর সহযোগিতায় রবিবার রাতে তাকে গাজীপুরের টঙ্গি পূর্ব থানার স্টেশন রোড থেকে গ্রেফতার করেন।

র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট বিএন ওয়াহিদুজ্জামান মঙ্গলবার সকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছেন।

র‌্যাব ও মামলা সূত্র জানায়, নিহত পিন্টু আকন্দ (৩৮) গত তিন বছর ধরে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খন্দকার সুপার মার্কেটে সম্বন্ধি বাবুর লোটো শোরুমের পরিচালক ছিলেন। ২২ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৭ মিনিটের দিকে শোরুম বন্ধ করার সময় ৬-৭ জনের একদল দুর্বৃত্ত সেখানে প্রবেশ করে। তারা পিন্টু আকন্দকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাশের আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কোমরভোগ এলাকায় মাইক্রোবাসে তার স্কচটেপ দিয়ে মুখ পেঁচানো মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী সাবিনাজ ইয়াসমিন দুপচাঁচিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির সদস্যরা আসামি গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেন। তারা প্রধান আসামি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কনকাই গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে মোক্তার হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত করেন। ২৮ জুলাই রাত পৌনে ১১টার দিকে র‌্যাব-১-এর সহযোগিতায় গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। পরে তাকে দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোক্তার হোসেন জানান, অনলাইন জুয়া খেলার বিট কয়েন বিক্রির পাওনা ১০ লাখ টাকা নিয়ে পিন্টু আকন্দের সঙ্গে বিরোধে সৃষ্টি হয়। এ টাকা উদ্ধারে পরিকল্পনা অনুসারে পিন্টুকে শোরুম থেকে অপহরণ করে। মাইক্রোবাসের মধ্যে চিৎকার করলে আসামিরা তার নাকেমুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ফেলে রাখে। সে সময় শ্বাসরোধ হয়ে পিন্টু আকন্দ মারা যান।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, পিন্টু আকন্দ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সন্দিগ্ধ আসামি মো. সজীব (৩২) গ্রেফতার এড়াতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় আত্মগোপন করেন। সোমবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সজীব বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ডিম শহর গ্রামের শাহাবুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে। মঙ্গলবার তাকে দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।