ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়া উচিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তার দল বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। একইসঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন। 

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে রংপুর সফরে এসে নগরের সেনপাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, ‘ওনাকে (তারেক রহমান) যেভাবে, যে প্রক্রিয়ায় রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, এটা আমরা কোনও সময় সমর্থন করিনি। এখন উনি আবার রাজনীতিতে পুনরায় যোগদান করেছেন। তিনি বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ। এখন বাংলাদেশের জন্য যে চ্যালেঞ্জ, ওনার দলের সময়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।’

দেশে এখন রাজনৈতিকভাবে সহাবস্থান সবচেয়ে দরকার উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, ‘হিংসা, মারামারি, কাটাকাটি করবো না। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য দাঁড়াবো। উনি (তারেক রহমান) ওনার প্রথম বক্তব্যে এটা বলেছেন। এটা আমি পছন্দ করেছি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে এখন যে সমস্যাগুলো দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যার কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। এটা আমরা মনে করি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ওনার নেতৃত্বে ওনার দল একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

দেশে সত্যিকার অর্থে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি আনতে হলে সব দলের অংশগ্রহণে একটা নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া হলো, অন্তত একটা খারাপ অবস্থান আমরা লক্ষ করছি। আমাদের দেশে অনেক নির্বাচন খারাপ হয়েছে। এখন এই নির্বাচনটা আমাদের আশঙ্কা খারাপ হবে। তবে আগের যেগুলো হয়েছে, তার চেয়ে খারাপ হবে নাকি সমকক্ষ হবে, এটিই এখন সামনের দিনে দেখার অপেক্ষায় আছি।’

নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছে না। জাতীয় পার্টির তিন জন প্রার্থী কারাগারে জুলুমবাজির শিকার হচ্ছেন। জাতীয় পার্টির অনেক প্রার্থীর নামে মিথ্যা মামলা আছে। তাদের এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ও পুলিশ পরোক্ষভাবে বলছেন, তারা এলে গ্রেফতার হতে পারেন। এখন অনেকে এলাকায় যাবেন কিনা, এটা নিয়ে সন্দিহান।’

নির্বাচন কমিশন ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণ করছে অভিযোগ করে জি এম কাদের বলেন, ‘তাদের সঙ্গে এখনও দেখা করার সুযোগ পাইনি। নির্বাচনি মনোনয়ন ফরমে কিছু জটিল বিষয় ঢোকানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কিছু প্রার্থীকে বাতিল করা হতে পারে।’ 

শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে থাকার জন্য এসেছি। আমরা বুঝেশুনে এসেছি, আমাদের ওপরে অন্যায় করা হচ্ছে। বেআইনিভাবে আমাদের নির্বাচন থেকে বের করার একটি উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি। সেটার জন্য আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নির্বাচনে এসেছি, এটাকে প্রমাণ করার জন্য আমাদের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। অন্যায়টা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য। আমরা যদি থাকতে পারি, শেষ পর্যন্ত থাকবো। যদি বাধ্য হই, আমরা জানে মারা পড়ছি, তখন হয়তো অন্য ব্যবস্থা হতে পারে।’

জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে এমন অভিযোগের জবাবে জি এম কাদের বলেন, ‘আমার মনে হয় বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন আওয়ামী ফোবিয়াতে ভুগছেন।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা এখন নমিনেশন সাবমিট করছি। আমাদের নমিনেশন কতগুলো বৈধ হয়, কী হয়, এগুলো আমরা দেখবো। তারপর চিন্তা করবো পরবর্তী পদক্ষেপ। জোটে যেতে পারি, না-ও যেতে পারি। জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত কম। তবে কোনও আন্ডারস্ট্যান্ডিং হতে পারে কারও সঙ্গে।’

তিন দিনের সফরে আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে রংপুরে আসেন জাপা চেয়ারম্যান। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলটির কো-চেয়ারম্যান ও ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর জেলার সদস্যসচিব আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগরের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. লোকমান হোসেন প্রমুখ। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়া উচিত

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তার দল বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। একইসঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন। 

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে রংপুর সফরে এসে নগরের সেনপাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, ‘ওনাকে (তারেক রহমান) যেভাবে, যে প্রক্রিয়ায় রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, এটা আমরা কোনও সময় সমর্থন করিনি। এখন উনি আবার রাজনীতিতে পুনরায় যোগদান করেছেন। তিনি বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ। এখন বাংলাদেশের জন্য যে চ্যালেঞ্জ, ওনার দলের সময়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।’

দেশে এখন রাজনৈতিকভাবে সহাবস্থান সবচেয়ে দরকার উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, ‘হিংসা, মারামারি, কাটাকাটি করবো না। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য দাঁড়াবো। উনি (তারেক রহমান) ওনার প্রথম বক্তব্যে এটা বলেছেন। এটা আমি পছন্দ করেছি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে এখন যে সমস্যাগুলো দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যার কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। এটা আমরা মনে করি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ওনার নেতৃত্বে ওনার দল একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

দেশে সত্যিকার অর্থে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি আনতে হলে সব দলের অংশগ্রহণে একটা নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া হলো, অন্তত একটা খারাপ অবস্থান আমরা লক্ষ করছি। আমাদের দেশে অনেক নির্বাচন খারাপ হয়েছে। এখন এই নির্বাচনটা আমাদের আশঙ্কা খারাপ হবে। তবে আগের যেগুলো হয়েছে, তার চেয়ে খারাপ হবে নাকি সমকক্ষ হবে, এটিই এখন সামনের দিনে দেখার অপেক্ষায় আছি।’

নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছে না। জাতীয় পার্টির তিন জন প্রার্থী কারাগারে জুলুমবাজির শিকার হচ্ছেন। জাতীয় পার্টির অনেক প্রার্থীর নামে মিথ্যা মামলা আছে। তাদের এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ও পুলিশ পরোক্ষভাবে বলছেন, তারা এলে গ্রেফতার হতে পারেন। এখন অনেকে এলাকায় যাবেন কিনা, এটা নিয়ে সন্দিহান।’

নির্বাচন কমিশন ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণ করছে অভিযোগ করে জি এম কাদের বলেন, ‘তাদের সঙ্গে এখনও দেখা করার সুযোগ পাইনি। নির্বাচনি মনোনয়ন ফরমে কিছু জটিল বিষয় ঢোকানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কিছু প্রার্থীকে বাতিল করা হতে পারে।’ 

শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে থাকার জন্য এসেছি। আমরা বুঝেশুনে এসেছি, আমাদের ওপরে অন্যায় করা হচ্ছে। বেআইনিভাবে আমাদের নির্বাচন থেকে বের করার একটি উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি। সেটার জন্য আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নির্বাচনে এসেছি, এটাকে প্রমাণ করার জন্য আমাদের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। অন্যায়টা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য। আমরা যদি থাকতে পারি, শেষ পর্যন্ত থাকবো। যদি বাধ্য হই, আমরা জানে মারা পড়ছি, তখন হয়তো অন্য ব্যবস্থা হতে পারে।’

জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে এমন অভিযোগের জবাবে জি এম কাদের বলেন, ‘আমার মনে হয় বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন আওয়ামী ফোবিয়াতে ভুগছেন।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা এখন নমিনেশন সাবমিট করছি। আমাদের নমিনেশন কতগুলো বৈধ হয়, কী হয়, এগুলো আমরা দেখবো। তারপর চিন্তা করবো পরবর্তী পদক্ষেপ। জোটে যেতে পারি, না-ও যেতে পারি। জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত কম। তবে কোনও আন্ডারস্ট্যান্ডিং হতে পারে কারও সঙ্গে।’

তিন দিনের সফরে আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে রংপুরে আসেন জাপা চেয়ারম্যান। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলটির কো-চেয়ারম্যান ও ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর জেলার সদস্যসচিব আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগরের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. লোকমান হোসেন প্রমুখ।