মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:১৯ অপরাহ্ন | ৮ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার, ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া বিআইডব্লিউটিসি: তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও অধরা অভিযুক্তরা

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) নিয়োগ, পদোন্নতি, জাহাজ ও ফেরি কেনা, দরপত্র এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্তে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টিকে চেপে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে সংস্থাটির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানের বিধিবহির্ভূত পদোন্নতি এবং এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মানসুরা আহমেদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশিকুজ্জামানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে উচ্চপদে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে মানসুরা আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং তাঁকে প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বদলির স্পষ্ট সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও এই সুপারিশ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শুধু পদোন্নতিই নয়; জাহাজ ও ফেরি নির্মাণে চুক্তি লঙ্ঘন, দরপত্র ছাড়াই মেরামতকাজ, অকার্যকর সরঞ্জাম কেনা এবং সরকারি জমি হাতছাড়ার মতো গুরুতর অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে তদন্তে। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানকে চলতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থায় প্রচলিত চাকরি প্রবিধানমালা ও প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি পূর্ববর্তী পদে নিয়মিতকরণ ছাড়াই তাঁকে উচ্চপদে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা চাকরির বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিকভাবে প্রবিধানমালা পাশ কাটিয়ে পদোন্নতির চর্চা চলে আসছে।

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, চাকরি প্রবিধানমালা না মেনে নিজের ইচ্ছামমতো শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করে আশিকুজ্জামানের পদোন্নতির নথি তৈরি করেছিলেন মানসুরা আহমেদ। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন অর্গানোগ্রাম ব্যবহার করে বিআইডব্লিউটিসিতে বছরের পর বছর ধরে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির মাধ্যমে অনিয়মের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চিত্র পেয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

08 November 2026

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন গতি: সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া বিআইডব্লিউটিসি: তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও অধরা অভিযুক্তরা

হালনাগাদ সময় : ০৯:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) নিয়োগ, পদোন্নতি, জাহাজ ও ফেরি কেনা, দরপত্র এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্তে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টিকে চেপে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে সংস্থাটির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানের বিধিবহির্ভূত পদোন্নতি এবং এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মানসুরা আহমেদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশিকুজ্জামানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে উচ্চপদে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে মানসুরা আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং তাঁকে প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বদলির স্পষ্ট সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও এই সুপারিশ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শুধু পদোন্নতিই নয়; জাহাজ ও ফেরি নির্মাণে চুক্তি লঙ্ঘন, দরপত্র ছাড়াই মেরামতকাজ, অকার্যকর সরঞ্জাম কেনা এবং সরকারি জমি হাতছাড়ার মতো গুরুতর অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে তদন্তে। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানকে চলতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থায় প্রচলিত চাকরি প্রবিধানমালা ও প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি পূর্ববর্তী পদে নিয়মিতকরণ ছাড়াই তাঁকে উচ্চপদে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা চাকরির বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিকভাবে প্রবিধানমালা পাশ কাটিয়ে পদোন্নতির চর্চা চলে আসছে।

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, চাকরি প্রবিধানমালা না মেনে নিজের ইচ্ছামমতো শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করে আশিকুজ্জামানের পদোন্নতির নথি তৈরি করেছিলেন মানসুরা আহমেদ। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন অর্গানোগ্রাম ব্যবহার করে বিআইডব্লিউটিসিতে বছরের পর বছর ধরে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির মাধ্যমে অনিয়মের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চিত্র পেয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

Share this news as a Photo Card