উত্তরের প্রায় প্রতিটি জেলায় সদর হাসপাতাল থাকলেও রংপুর এর ব্যতিক্রম। রংপুরে নেই সদর হাসপাতাল। এক সময় রংপুর সদর হাসপাতালে হাতকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছোট-খাটো রোগের চিকিৎসা দেওয়া হতো। বিশেষ করে রংপুরের স্থানীয় মানুষজন এ হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করতেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় সদর হাসপাতাল। ফলে সকল রোগীর চাপ এসে পড়েছে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে। ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী রংপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ৩১ লাখ ৬৯ হাজার ৬১৫ জন। কিন্তু এই সকল মানুষের জন্য কোনো সদর হাসপাতাল নেই।
সরেজমিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটি এক হাজার শয্যার হলেও রোগী রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় জনবলও রয়েছে অর্ধেকের কম। এর ফলে একদিকে যেমন চিকিৎসক-নার্সরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, অপরদিকে রোগীদেরও চিকিৎসা গ্রহণে নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে সদর হাসপাতালের অবকাঠামো সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভবনটি। এক সময় যে ভবনটিতে রোগীরা পেতেন স্বাস্থ্যসেবা, আজ সেই হাসপাতাল পড়ে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। যেন দেখার কেউ নেই। ভবনটির ভাঙা জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকসেবনের জিনিসপত্র পড়ে রয়েছে মেঝেতে। মলমূত্র ত্যাগের জন্যও ব্যবহার হচ্ছে পরিত্যক্ত এ ভবনটি।
জানা যায়, রংপুর বিভাগের সব জেলা থেকেই চিকিৎসা নিতে রংপুরে আসেন মানুষজন। কিন্তু রোগীর চাপের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় এসব রোগীর। সচেতনরা বলছেন, ২০০ শয্যার সদর হাসপাতাল চালু করা গেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে, ফলে চিকিৎসকদেরও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে না। এদিকে সদর হাসপাতাল চালুর বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রংপুর নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল রোডস্থ জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশা মনি বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর অনেক চাপ থাকে। আমরা স্থানীয়রা হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাও পাই না। যদি সদর হাসপাতাল চালু থাকত তাহলে অন্তত স্থানীয়রা এখানে চিকিৎসা নিতে পারতাম।
নাসিম আহমেদ বলেন, রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসা পাই না। বেড পাওয়া যায় না। বেসরকারি হাসপাতালে খরচ অনেক। সদর হাসপাতাল চালু থাকলে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের চিকিৎসা সেবায় অনেক সুবিধা হতো। মাহিগঞ্জ এলাকার হাশেম আলী বলেন, রংপুর বিভাগের সব জেলাতেই সদর হাসপাতাল আছে, শুধু নেই রংপুরে। ফলে রংপুরের মানুষ সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুরো রংপুর বিভাগের রোগীর চাপ থাকে। ফলে রংপুরের মানুষজনকে সাধারণ কিছু রোগের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হতে হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, রংপুর সব দিক থেকেই বঞ্চিত। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। স্থানীয়রাই সেখানে চিকিৎসার সুযোগ পান না। পুনরায় যদি রংপুর সদর হাসপাতালকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করে চালু করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

























