ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে একক দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ডানপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েলের অস্তিত্ববিরোধী আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা যাবে না এবং এমন পদক্ষেপ লজ্জাজনক হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পশ্চিম জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের সময় তিনি এ বক্তব্য দেন।
নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। তবে সব জল্পনা পেছনে ফেলে লিকুদ পার্টি ইসরায়েলের বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোট গণনার অর্ধেকের বেশি শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বুথফেরত পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেতে পারে ৫৬টি আসন এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। তবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের জাদুকরী সংখ্যা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি। দেশটির ১২ ও ১৩ নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্যমতে, ১২০ আসনের নেসেটে লিকুদ পার্টি এককভাবে ২৭টি এবং আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেতে পারে।
বক্তব্যে ২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার প্রশাসনের পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এ সময় তিনি হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের খতিয়ান তুলে ধরেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে ইসরায়েল। ফলে ইরান এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সামরিকভাবে দুর্বল এবং ইসরায়েল অধিক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে নস্যাৎ করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।


























