নব্বইয়ের দশক থেকে অনন্য গায়কিতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন সংগীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিল। বাংলা ব্যান্ডের হাত ধরে লোকসংগীত ও ফোক ফিউশনে নিজস্ব ধারা তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে বড় মঞ্চ ও কমার্শিয়াল গানে তাকে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে গান থেকে দূরে থাকার কারণ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় আনুশেহকে।
সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন, গান গাইতে না পারার কারণে কিংবা নেশার জন্য তিনি গান থেকে সরে যাননি। ভিডিওতে আনুশেহ বলেন, ‘দূর থেকে বসে আমাকে জাজ করে এটা ভেবে নেবেন না যে আমি নেশার কারণে গান ছেড়ে দিয়েছি, গান গাইতে পারি না। কারণ আমি এখনো পুরোই গান গাইতে পারি। আমি একটু আগেও গান গেয়েছি এতগুলো মহিলার জন্য।’
বড় কনসার্টে অংশ নেওয়া কিংবা বাণিজ্যিকভাবে গান করার ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তের কথাও জানান এই শিল্পী। তার ভাষ্য, ‘আমি জাস্ট বড় বড় কনসার্টগুলো করি না, কমার্শিয়ালি গান করি না। আমি হয়তোবা কিছু কিছু ডিসিশন নিয়েছি আমার লাইফে, যে আমি আমার জীবনটাকে সহজ করব।’
এদিকে চলতি বছরের জুলাইয়ে আনুশেহ আনাদিল জানিয়েছিলেন, তিনি ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি হারাচ্ছেন। দীর্ঘদিন মঞ্চ ও সংগীত থেকে দূরে থাকার কারণ জানাতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা খোলাখুলিভাবে তুলে ধরেন এই শিল্পী। সেখানে তিনি জানান, টিনিটাস (Tinnitus) নামের একটি সমস্যায় ভুগছেন। তার কারণে এখন উচ্চ শব্দ সহ্য করাও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
পোস্টে আনুশেহ আরও লিখেছিলেন, তিনি আর গান না করার পেছনে এটিই মূল কারণ। তার ভাষায়, কানের ভেতরে সব সময় তীব্র শব্দ শুনতে পান। এটি ধীরে ধীরে তার শ্রবণক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এমনকি উচ্চ শব্দ এখন তার কানে ব্যথাও তৈরি করে। চিকিৎসকের পরামর্শে একসময় হিয়ারিং এইড ব্যবহার শুরু করেছিলেন। তবে তার অভিজ্ঞতায় সেটি ব্যবহারের পর কানে নির্ভরশীলতা বেড়ে যায় এবং টিনিটাসের সমস্যাও আরও প্রকট হয়ে ওঠে। পরে তিনি হিয়ারিং এইড ব্যবহার বন্ধ করে দেন। এই শারীরিক সমস্যার কারণেই শহরের কোলাহল থেকে দূরে, শান্ত পরিবেশে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন আনুশেহ। নিরিবিলিতে কাটে তার জীবন।
আনুশেহ আনাদিল বাংলাদেশের লোকসংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী। বাউল, লালন ও মরমি গানের দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্যান্ড ‘বাংলা’র মাধ্যমে তিনি দেশীয় লোকসংগীতকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন।
নিজস্ব কণ্ঠ, গায়কির ধরন ও শেকড়ের সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের ভালোবাসা পেয়েছেন আনুশেহ। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা’, ‘ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা’, ‘সহজ মানুষ’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘আমি ওপার হয়ে’ ইত্যাদি।

























