সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম কাজের তাড়া, দায়িত্বের পাহাড় আর নিত্যনতুন লক্ষ্যপূরণের চাপ—সব মিলিয়ে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করাই এখন অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমনকি সুযোগ পেলেও মানুষ মুঠোফোনের পর্দায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুঁদ হয়ে থাকতেই বেশি অভ্যস্ত। তবে এই নিরবচ্ছিন্ন ব্যস্ততা আর সবসময় ‘কিছু একটা করতেই হবে’—এমন তাগিদ থেকে ক্ষণিকের জন্য বিরতি নেওয়া যে জীবনের জন্য ভীষণ জরুরি, সেই ধারণা থেকেই বিশ্বে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘দ্য আর্ট অব ডুইং নাথিং’ বা কিছু না করার শিল্প।
সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনো নির্দিষ্ট কাজের তাগিদ কিংবা ফলাফল পাওয়ার তাড়া ছাড়াই নিজের মতো করে সময় কাটানোই এই দর্শনের মূল কথা। জানালার পাশে উদাস হয়ে বসে থাকা, বারান্দায় এক কাপ চা হাতে একান্তে সময় কাটানো কিংবা প্রকৃতির শব্দ উপভোগ করার মাধ্যমেই এই অভ্যাসটি গড়ে তোলা যায়।
কাজের ফাঁকে অলস সময় কাটানো বা সচেতনভাবে বিরতি নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করে। সবসময় ব্যস্ত থাকার চক্রে পড়ে বিশ্রামের স্বাভাবিক প্রয়োজনকে উপেক্ষা করলে শরীর ও মনে চরম ক্লান্তি জমতে পারে। তাই অবসাদ এড়াতে মাঝে মাঝে থেমে যাওয়া আবশ্যক।
সারাক্ষণ কাজের ভেতর ডুবে থাকলে নিজস্ব ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে নেওয়ার অবকাশ মেলে না। কিছুটা অলস বা কর্মহীন সময় মস্তিষ্ককে মুক্তভাবে ভাবার সুযোগ দেয়, যা সৃজনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে। এতে নতুন কোনো ধারণা তৈরি হতে পারে এবং জটিল সমস্যার সমাধানও সহজ হয়ে উঠতে পারে।
অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে আমাদের আশপাশের ছোটখাটো কিন্তু সুন্দর মুহূর্তগুলো দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়। কিছুক্ষণের জন্য মুঠোফোন ও প্রযুক্তি থেকে দূরে থেকে পাখির ডাক শোনা, গাছের মৃদু দোলা দেখা কিংবা সকালের মিষ্টি রোদ উপভোগের মধ্য দিয়ে বর্তমান মুহূর্তকে গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব।
প্রতিদিন অন্তত পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় সম্পূর্ণ নিজের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। এ সময় কাজের পরিকল্পনা সাজানো কিংবা ফোনের স্ক্রিন দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, কিছু না করার এই অভ্যাস কোনো দায়িত্বহীনতা বা কাজ এড়িয়ে চলা নয়; বরং এটি কর্মক্ষমতা ও বিশ্রামের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য তৈরি করার প্রয়াস। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকেই কাজের পেছনে ব্যয় করতে হবে এমন নয়, কখনো কখনো একটু থেমে থাকাও নিজের যত্ন নেওয়ার শ্রেষ্ঠ উপায়।


























