মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:০৮ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ: ফের আলোচনায় বিইআরসির প্রবিধানমালা

  • হালনাগাদ সময় : ০৮:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর জ্বালানি তেলের প্রবিধানমালা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রবিধানমালা নিয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বহুবার আলোচনায় এলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এটি আলোর মুখ দেখেনি, যার ফলস্বরূপ নির্বাহী আদেশে নির্ধারণ করা হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম।

গত ১০ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে গণশুনানি ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ জানতে চাওয়া হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান জানান, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে কমিশন শুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করবে এবং এ জন্য একটি প্রবিধান তৈরি করবে। কিন্তু গত ২৩ বছরেও কেন এই প্রবিধান তৈরি করা হলো না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।

এই আলোচনার একদিন পরই, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে প্রবিধানমালা নিয়ে তৎপরতা দেখা যায় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিইআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও প্রবিধানমালা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মতামত চাওয়ার পর বিষয়টি থমকে যায়।

২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন পাসের মাধ্যমে বিইআরসি একটি নিরপেক্ষ ও আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত হয় এবং ২০০৯ সালে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত ১৩টি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হলেও আরও ১২টি প্রবিধানমালা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি যোগদানের আগে থেকেই প্রবিধানমালাগুলো মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। তিনি এইগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে জোর দিচ্ছেন। জ্বালানি তেলের পৃথক তিনটি প্রবিধানমালা (বিতরণ, সঞ্চালন ও খুচরা বিক্রয়) না করে একত্রে করার বিষয়টি সামনে আসায় সেগুলো একত্রিত করে পাঠানো হয়েছে।

আইনে সকল প্রকার জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কেবল গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল। তবে ২০২৩ সালে বিগত সরকার কর্তৃক আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করা হয়। এরপর থেকে নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করায় কার্যত রেগুলেটরি কমিশন বেকার হয়ে পড়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তার মধ্যেই আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

28 October 2026

টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক: ঢাকায় কার্যালয় খোলার আহ্বান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ: ফের আলোচনায় বিইআরসির প্রবিধানমালা

হালনাগাদ সময় : ০৮:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর জ্বালানি তেলের প্রবিধানমালা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রবিধানমালা নিয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বহুবার আলোচনায় এলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এটি আলোর মুখ দেখেনি, যার ফলস্বরূপ নির্বাহী আদেশে নির্ধারণ করা হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম।

গত ১০ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে গণশুনানি ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ জানতে চাওয়া হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান জানান, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে কমিশন শুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করবে এবং এ জন্য একটি প্রবিধান তৈরি করবে। কিন্তু গত ২৩ বছরেও কেন এই প্রবিধান তৈরি করা হলো না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।

এই আলোচনার একদিন পরই, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে প্রবিধানমালা নিয়ে তৎপরতা দেখা যায় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিইআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও প্রবিধানমালা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মতামত চাওয়ার পর বিষয়টি থমকে যায়।

২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন পাসের মাধ্যমে বিইআরসি একটি নিরপেক্ষ ও আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত হয় এবং ২০০৯ সালে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত ১৩টি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হলেও আরও ১২টি প্রবিধানমালা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি যোগদানের আগে থেকেই প্রবিধানমালাগুলো মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। তিনি এইগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে জোর দিচ্ছেন। জ্বালানি তেলের পৃথক তিনটি প্রবিধানমালা (বিতরণ, সঞ্চালন ও খুচরা বিক্রয়) না করে একত্রে করার বিষয়টি সামনে আসায় সেগুলো একত্রিত করে পাঠানো হয়েছে।

আইনে সকল প্রকার জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কেবল গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল। তবে ২০২৩ সালে বিগত সরকার কর্তৃক আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করা হয়। এরপর থেকে নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করায় কার্যত রেগুলেটরি কমিশন বেকার হয়ে পড়েছে।

Share this news as a Photo Card