মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:১৩ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সরকারি ঋণের সুদের হার নিম্নমুখী: কমতে পারে ব্যাংক ঋণের খরচ

  • হালনাগাদ সময় : ০১:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে
দেশের আর্থিক খাতে স্বস্তির আভাস দিয়ে সরকারি ঋণের বিভিন্ন উপকরণের সুদের হার কমতে শুরু করেছে। গত জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার ১ থেকে ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও গড়ে দেড় শতাংশ কমানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষভাগে ঘোষিতব্য মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার (Policy Rate) কমানো হতে পারে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার ১০ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের সুদহারের এই নিম্নমুখী প্রবণতাকে বিনিয়োগ ও ঋণের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমায় ব্যাংকগুলোর ঋণের খরচ কমানোর পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মেয়াদি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদে উল্লেখ্যযোগ্য পতন ঘটেছে:

  • ৯১ দিন মেয়াদি বিল: ১১.৯৪% থেকে কমে ৯.৪৬%।
  • ৬ মাস মেয়াদি বিল: ১২.০০% থেকে কমে ৯.৬৪%।
  • ১ বছর মেয়াদি বিল: ১২.০০% থেকে কমে ৯.৫৫%।
  • ৫ বছর মেয়াদি বন্ড: ১২.৩৪% থেকে কমে ৯.২৫%।
  • ১০ বছর মেয়াদি বন্ড: ১২.২৮% থেকে কমে ৯.৫৭%।

নতুন বছরের শুরুতেই (১ জানুয়ারি ২০২৬) সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে এখন থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০.৫৪ শতাংশ (আগে যা ছিল ১১.৯৩%)। ১ লাখ টাকা বিনিয়োগে এখন থেকে প্রতি মাসে মুনাফা কমবে প্রায় ১১০ টাকা। সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে তারল্যের জোগান বেড়েছে। গত নভেম্বরে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৫ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আমানতের প্রবাহ টেকসই হওয়ায় এবং রেমিট্যান্স বাড়ার ফলে কলমানি রেটও ১১ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ‘স্প্রেড’ (ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান) ৪ শতাংশের নিচে নামানোর চেষ্টা করছে। নীতি সুদহার বর্তমানে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকলেও মুদ্রানীতিতে তা কমানোর জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সুদহারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তহবিলগুলোর ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: হুমায়ুন কবীর

28 October 2026

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, ফল মেনে নেব: বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সরকারি ঋণের সুদের হার নিম্নমুখী: কমতে পারে ব্যাংক ঋণের খরচ

হালনাগাদ সময় : ০১:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
দেশের আর্থিক খাতে স্বস্তির আভাস দিয়ে সরকারি ঋণের বিভিন্ন উপকরণের সুদের হার কমতে শুরু করেছে। গত জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার ১ থেকে ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও গড়ে দেড় শতাংশ কমানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষভাগে ঘোষিতব্য মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার (Policy Rate) কমানো হতে পারে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার ১০ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের সুদহারের এই নিম্নমুখী প্রবণতাকে বিনিয়োগ ও ঋণের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমায় ব্যাংকগুলোর ঋণের খরচ কমানোর পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মেয়াদি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদে উল্লেখ্যযোগ্য পতন ঘটেছে:

  • ৯১ দিন মেয়াদি বিল: ১১.৯৪% থেকে কমে ৯.৪৬%।
  • ৬ মাস মেয়াদি বিল: ১২.০০% থেকে কমে ৯.৬৪%।
  • ১ বছর মেয়াদি বিল: ১২.০০% থেকে কমে ৯.৫৫%।
  • ৫ বছর মেয়াদি বন্ড: ১২.৩৪% থেকে কমে ৯.২৫%।
  • ১০ বছর মেয়াদি বন্ড: ১২.২৮% থেকে কমে ৯.৫৭%।

নতুন বছরের শুরুতেই (১ জানুয়ারি ২০২৬) সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে এখন থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০.৫৪ শতাংশ (আগে যা ছিল ১১.৯৩%)। ১ লাখ টাকা বিনিয়োগে এখন থেকে প্রতি মাসে মুনাফা কমবে প্রায় ১১০ টাকা। সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে তারল্যের জোগান বেড়েছে। গত নভেম্বরে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৫ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আমানতের প্রবাহ টেকসই হওয়ায় এবং রেমিট্যান্স বাড়ার ফলে কলমানি রেটও ১১ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ‘স্প্রেড’ (ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান) ৪ শতাংশের নিচে নামানোর চেষ্টা করছে। নীতি সুদহার বর্তমানে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকলেও মুদ্রানীতিতে তা কমানোর জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সুদহারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তহবিলগুলোর ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Share this news as a Photo Card