মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:১১ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল, আগের হারই বহাল

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:০৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। ফলে আগামী ছয় মাসেও বিনিয়োগকারীরা আগের নির্ধারিত হারেই মুনাফা পাবেন। 

রবিবার (৪ জানুয়ারি) অর্থ বিভাগ নতুন মুনাফার হার বাতিল করে পুরানো হার বহাল রাখতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানায়। এখন আইআরডি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

এর ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা দেওয়া হচ্ছিল, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্তও একই হার কার্যকর থাকবে।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। এতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই সরকার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিনিয়োগের পরিমাণ ভেদে মুনাফার হার

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি এবং বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কিছুটা কম। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই অঙ্ক পর্যন্ত বিনিয়োগে বেশি হারে এবং এর বেশি বিনিয়োগে কম হারে মুনাফা দেওয়া হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের আওতাধীন সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ—এই হারই বহাল থাকছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ বহাল থাকছে।

এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ নির্ধারিত থাকছে।

মূল্যস্ফীতির চাপ ও বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি

সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বিপদের সময় সঞ্চয়পত্র ভেঙে খরচ মেটানো কিংবা নিয়মিত সংসার ব্যয়ের একটি অংশ মুনাফা থেকে আসার ওপর নির্ভর করেন অনেকেই।

দেশে টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও ৮-৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পেয়েছেন।

সাধারণত প্রতি ছয় মাস পর পর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় এক বছর ধরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: হুমায়ুন কবীর

28 October 2026

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, ফল মেনে নেব: বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল, আগের হারই বহাল

হালনাগাদ সময় : ০৯:০৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। ফলে আগামী ছয় মাসেও বিনিয়োগকারীরা আগের নির্ধারিত হারেই মুনাফা পাবেন। 

রবিবার (৪ জানুয়ারি) অর্থ বিভাগ নতুন মুনাফার হার বাতিল করে পুরানো হার বহাল রাখতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানায়। এখন আইআরডি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

এর ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা দেওয়া হচ্ছিল, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্তও একই হার কার্যকর থাকবে।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। এতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই সরকার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিনিয়োগের পরিমাণ ভেদে মুনাফার হার

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি এবং বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কিছুটা কম। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই অঙ্ক পর্যন্ত বিনিয়োগে বেশি হারে এবং এর বেশি বিনিয়োগে কম হারে মুনাফা দেওয়া হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের আওতাধীন সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ—এই হারই বহাল থাকছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ বহাল থাকছে।

এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ নির্ধারিত থাকছে।

মূল্যস্ফীতির চাপ ও বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি

সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বিপদের সময় সঞ্চয়পত্র ভেঙে খরচ মেটানো কিংবা নিয়মিত সংসার ব্যয়ের একটি অংশ মুনাফা থেকে আসার ওপর নির্ভর করেন অনেকেই।

দেশে টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও ৮-৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পেয়েছেন।

সাধারণত প্রতি ছয় মাস পর পর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় এক বছর ধরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকছে।

Share this news as a Photo Card