মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:২৪ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সংকটে দেশীয় সুতাকল: বিটিএমএ সভাপতি

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের স্পিনিং মিলগুলো চরম সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। তার দাবি, গত অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ, যার ফলে দেশের অন্তত ৫০টি সুতাকল বন্ধ হয়ে গেছে।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় প্রায় ৩০ সেন্ট কম দামে ডাম্পিং করছে বাংলাদেশে। এই অসম প্রতিযোগিতার কারণে দেশীয় সুতাকলগুলো টিকতে পারছে না। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলোতে ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল, যা নতুন করে পুনরায় চালু করা অত্যন্ত কঠিন।

বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেন, আমরা ক্রমেই সুতার ক্ষেত্রে ভারতের ওপর অতিনির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। অতীতে একাধিকবার ভারত বিনা কারণে তুলা ও সুতা রফতানি বন্ধ করেছে। এই নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে দেশের শিল্প খাতের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ভারতের কম দামে সুতা আমদানির কারণে বর্তমানে দেশের স্পিনিং মিলগুলোতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। বাজারমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

তবে ভারত থেকে সুতা আমদানি পুরোপুরি বন্ধের পক্ষে নন বলে জানান তিনি। বলেন, আমরা আমদানি বন্ধ চাই না, চাই বাণিজ্যঘাটতি কমুক এবং অতিনির্ভরশীলতা হ্রাস পাক। তা না হলে প্রথমে তৈরি পোশাকের সংযোগ শিল্প এবং পরে মূল তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

সরকারের এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নতুন কারখানা তৈরি করতে পারেনি, বরং বন্ধ করেছে। ২৫০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, ৫০টির বেশি বস্ত্রকল বন্ধ হয়ে গেছে। অর্ধেকের বেশি কারখানা এখন অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। প্রশ্ন হলো—গত এক বছরে সরকারের কী সফলতা আছে? তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যর্থ।

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সুতার সরাসরি ও প্রচ্ছন্ন রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান শওকত আজিজ রাসেল। পাশাপাশি রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বাড়ানো ও সুদহার কমানো, ব্যাংকঋণের সুদের হার হ্রাস এবং ঋণ পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এম মতিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খোকন এবং সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দারসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: হুমায়ুন কবীর

28 October 2026

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, ফল মেনে নেব: বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সংকটে দেশীয় সুতাকল: বিটিএমএ সভাপতি

হালনাগাদ সময় : ০৫:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের স্পিনিং মিলগুলো চরম সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। তার দাবি, গত অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ, যার ফলে দেশের অন্তত ৫০টি সুতাকল বন্ধ হয়ে গেছে।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় প্রায় ৩০ সেন্ট কম দামে ডাম্পিং করছে বাংলাদেশে। এই অসম প্রতিযোগিতার কারণে দেশীয় সুতাকলগুলো টিকতে পারছে না। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলোতে ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল, যা নতুন করে পুনরায় চালু করা অত্যন্ত কঠিন।

বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেন, আমরা ক্রমেই সুতার ক্ষেত্রে ভারতের ওপর অতিনির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। অতীতে একাধিকবার ভারত বিনা কারণে তুলা ও সুতা রফতানি বন্ধ করেছে। এই নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে দেশের শিল্প খাতের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ভারতের কম দামে সুতা আমদানির কারণে বর্তমানে দেশের স্পিনিং মিলগুলোতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। বাজারমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

তবে ভারত থেকে সুতা আমদানি পুরোপুরি বন্ধের পক্ষে নন বলে জানান তিনি। বলেন, আমরা আমদানি বন্ধ চাই না, চাই বাণিজ্যঘাটতি কমুক এবং অতিনির্ভরশীলতা হ্রাস পাক। তা না হলে প্রথমে তৈরি পোশাকের সংযোগ শিল্প এবং পরে মূল তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

সরকারের এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নতুন কারখানা তৈরি করতে পারেনি, বরং বন্ধ করেছে। ২৫০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, ৫০টির বেশি বস্ত্রকল বন্ধ হয়ে গেছে। অর্ধেকের বেশি কারখানা এখন অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। প্রশ্ন হলো—গত এক বছরে সরকারের কী সফলতা আছে? তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যর্থ।

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সুতার সরাসরি ও প্রচ্ছন্ন রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান শওকত আজিজ রাসেল। পাশাপাশি রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বাড়ানো ও সুদহার কমানো, ব্যাংকঋণের সুদের হার হ্রাস এবং ঋণ পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এম মতিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খোকন এবং সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দারসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Share this news as a Photo Card