মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:২০ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত

  • হালনাগাদ সময় : ১০:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। বোর্ড সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান কেনা নিয়ে মূল্য ও শর্তাবলি সংক্রান্ত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র ও জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে গত ২৭ জুলাই সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর কষাকষির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে কিছু বিমান আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘বোয়িংয়ের ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নয়, এটি বোয়িং কোম্পানি করে। বাংলাদেশ মোট ২৫টি বোয়িংয়ের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। অন্য দেশও এমন ক্রয়াদেশ দিয়েছে। যেমন ভারত ও ভিয়েতনাম ১০০টি করে এবং ইন্দোনেশিয়া ৫০টি বোয়িং বিমান অর্ডার দিয়েছে। এখন বোয়িং কোম্পানি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করবে। অর্ডারের বোয়িং পেতে অনেক সময় লাগবে। যারা আগে অর্ডার দিয়েছে, তাদের আগে দেবে কিংবা প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বিমান সরবরাহ করবে। বাংলাদেশের অতিদ্রুত কিছু বোয়িং দরকার। আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে হয়তো কয়েকটি বিমান পাওয়া যাবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার বিষয়ে বাণিজ্য সচিবের ঘোষণার পর এয়ারবাস বিক্রির জন্য জোরেশোরে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন ইউরোপের কূটনীতিকরা। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সরাসরি এয়ারবাসের বিষয়ে আলাপ করেন কূটনীতিকরা।

গত বছর বোয়িং কেনার জন্য কূটনীতিক তৎপরতা চালাতে দেখা যায় ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে। ওই বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে জুলাইয়ে সাবেক বিমানমন্ত্রী ফারুক খানের সঙ্গে বোয়িং কেনার বিষয়ে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে বিমান মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বোয়িং না এয়ারবাস কোন কোম্পানির উড়োজাহাজ কেনা হবে, তা নির্ভর করছে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর। মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, বোর্ড সভায় বোয়িংয়ের ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বিমান বিক্রয় প্রস্তাব এবং ২০ ডিসেম্বর পাঠানো সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বোয়িং কোম্পানি বিমানের কাছে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বোর্ড সভায় এ প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি দেওয়া হয় এবং আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে বড় পরিসরে বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রফতানি শুল্ক ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বিমান ক্রয়ের মতো বড় অর্ডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দিকটি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

বোয়িং কোম্পানির বাণিজ্যিক বিমান বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. পল রিঘির কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান লেখেন, বোর্ডের এই অনুমোদন চূড়ান্ত চুক্তির আগে আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা মাত্র। 

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কোনও ধরনের আর্থিক বা আইনি দায়ে আবদ্ধ থাকবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বিমান পরিবহনখাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে ৩০ ডিসেম্বর বোর্ড সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন বিমান কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি বোয়িং কেনার দরদামসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা করবে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: হুমায়ুন কবীর

28 October 2026

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, ফল মেনে নেব: বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত

হালনাগাদ সময় : ১০:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। বোর্ড সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান কেনা নিয়ে মূল্য ও শর্তাবলি সংক্রান্ত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র ও জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে গত ২৭ জুলাই সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর কষাকষির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে কিছু বিমান আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘বোয়িংয়ের ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নয়, এটি বোয়িং কোম্পানি করে। বাংলাদেশ মোট ২৫টি বোয়িংয়ের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। অন্য দেশও এমন ক্রয়াদেশ দিয়েছে। যেমন ভারত ও ভিয়েতনাম ১০০টি করে এবং ইন্দোনেশিয়া ৫০টি বোয়িং বিমান অর্ডার দিয়েছে। এখন বোয়িং কোম্পানি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করবে। অর্ডারের বোয়িং পেতে অনেক সময় লাগবে। যারা আগে অর্ডার দিয়েছে, তাদের আগে দেবে কিংবা প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বিমান সরবরাহ করবে। বাংলাদেশের অতিদ্রুত কিছু বোয়িং দরকার। আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে হয়তো কয়েকটি বিমান পাওয়া যাবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার বিষয়ে বাণিজ্য সচিবের ঘোষণার পর এয়ারবাস বিক্রির জন্য জোরেশোরে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন ইউরোপের কূটনীতিকরা। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সরাসরি এয়ারবাসের বিষয়ে আলাপ করেন কূটনীতিকরা।

গত বছর বোয়িং কেনার জন্য কূটনীতিক তৎপরতা চালাতে দেখা যায় ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে। ওই বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে জুলাইয়ে সাবেক বিমানমন্ত্রী ফারুক খানের সঙ্গে বোয়িং কেনার বিষয়ে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে বিমান মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বোয়িং না এয়ারবাস কোন কোম্পানির উড়োজাহাজ কেনা হবে, তা নির্ভর করছে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর। মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, বোর্ড সভায় বোয়িংয়ের ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বিমান বিক্রয় প্রস্তাব এবং ২০ ডিসেম্বর পাঠানো সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বোয়িং কোম্পানি বিমানের কাছে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বোর্ড সভায় এ প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি দেওয়া হয় এবং আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে বড় পরিসরে বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রফতানি শুল্ক ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বিমান ক্রয়ের মতো বড় অর্ডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দিকটি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

বোয়িং কোম্পানির বাণিজ্যিক বিমান বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. পল রিঘির কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান লেখেন, বোর্ডের এই অনুমোদন চূড়ান্ত চুক্তির আগে আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা মাত্র। 

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কোনও ধরনের আর্থিক বা আইনি দায়ে আবদ্ধ থাকবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বিমান পরিবহনখাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে ৩০ ডিসেম্বর বোর্ড সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন বিমান কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি বোয়িং কেনার দরদামসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা করবে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

Share this news as a Photo Card