মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৫:২২ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পুঁজিবাজার থেকে বিদেশিদের ৮০০ কোটি টাকা প্রত্যাহার: ব্যাংক খাত ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় আস্থার সংকট

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিচ্ছেন, যা বাজারের গভীরতা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের হিড়িক পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) তালিকাভুক্ত শেয়ারে নিট বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৬৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮০৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই নিট বহিঃপ্রবাহ ছিল মাত্র ৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা কয়েক গুণ বেড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতের টালমাটাল অবস্থা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কম্পানিগুলোর আয় কমে যাওয়ায় বিদেশিরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমার পেছনে দীর্ঘদিনের ‘ফ্লোর প্রাইস’ বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমা আরোপের নেতিবাচক প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। এছাড়া গত ১৮ মাস ধরে নতুন কোনো মানসম্মত আইপিও বাজারে না আসা এবং তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর দুর্বল সুশাসন বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসছে এবং নীতিমালায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও পুঁজিবাজারের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন নেমে এসেছে মাত্র ২৯৩ কোটি টাকায়, যা গত ৭ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও সূচকের পতন থামেনি। ডিএসইএক্স সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ৪৮২৬ পয়েন্টে ঠেকেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতন লক্ষ করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারের বৈচিত্র্য ফেরাতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা এবং নীতিগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: হুমায়ুন কবীর

28 October 2026

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, ফল মেনে নেব: বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

পুঁজিবাজার থেকে বিদেশিদের ৮০০ কোটি টাকা প্রত্যাহার: ব্যাংক খাত ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় আস্থার সংকট

হালনাগাদ সময় : ০৩:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিচ্ছেন, যা বাজারের গভীরতা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের হিড়িক পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) তালিকাভুক্ত শেয়ারে নিট বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৬৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮০৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই নিট বহিঃপ্রবাহ ছিল মাত্র ৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা কয়েক গুণ বেড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতের টালমাটাল অবস্থা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কম্পানিগুলোর আয় কমে যাওয়ায় বিদেশিরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমার পেছনে দীর্ঘদিনের ‘ফ্লোর প্রাইস’ বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমা আরোপের নেতিবাচক প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। এছাড়া গত ১৮ মাস ধরে নতুন কোনো মানসম্মত আইপিও বাজারে না আসা এবং তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর দুর্বল সুশাসন বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসছে এবং নীতিমালায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও পুঁজিবাজারের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন নেমে এসেছে মাত্র ২৯৩ কোটি টাকায়, যা গত ৭ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও সূচকের পতন থামেনি। ডিএসইএক্স সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ৪৮২৬ পয়েন্টে ঠেকেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতন লক্ষ করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারের বৈচিত্র্য ফেরাতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা এবং নীতিগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Share this news as a Photo Card