মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:১৮ অপরাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

কারখানায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তুরস্কে ফেরত যাচ্ছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারের যন্ত্রপাতি

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কারখানায় প্রয়োজনীয় স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাংলাদেশে আমদানি করা ৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পূর্ণ নতুন ও অব্যবহৃত এক সেট শিল্প যন্ত্রপাতি তুরস্কে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের যৌথ মালিকানাধীন শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ‘লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড’ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে শুল্ক ও করমুক্ত সুবিধায় যন্ত্রপাতিটি পুনঃরপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্লট নম্বর ৫১৩-৬১৬-তে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি চলতি ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০১৫৩০-এর মাধ্যমে তুরস্ক থেকে এক সেট নতুন ‘সি-উইড প্রোডাকশন লাইন’ আমদানি করে। তবে কারখানা ভবনে যন্ত্রপাতির বড় আকারের তুলনায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর এটি মূল সরবরাহকারীর মনোনীত তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের কাছে পুনঃরপ্তানি করার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায় কোম্পানিটি।

আবেদনে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করে যে, আমদানি করা এই আধুনিক যন্ত্রপাতি দেশে কখনোই স্থাপন, চালু কিংবা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা পরীক্ষামূলক উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া আমদানির বিপরীতে ব্যাংক চ্যানেলে পরিশোধিত পুরো ৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ইতিমধ্যে পুনঃরপ্তানি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পুনঃরপ্তানির প্রাথমিক অনুমোদন দিলেও পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের একটি দল সরেজমিনে কারখানা পরিদর্শন করে। তাদের দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, যন্ত্রপাতিটি শতভাগ নতুন, অক্ষত ও সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে এবং এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যন্ত্রপাতি দেশে ব্যবহৃত না হওয়া, কাস্টমসের শতভাগ সন্তোষজনক পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং পরিশোধিত বৈদেশিক মুদ্রা সফলভাবে দেশে ফেরত আসায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে শর্তসাপেক্ষে শুল্ক-করমুক্ত সুবিধায় পুনঃরপ্তানির সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই পুনঃরপ্তানি সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিক কঠোর শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংক এবং বেপজার আনুষ্ঠানিক অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দাখিল করা; বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে যন্ত্রপাতির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করে কনটেইনার সিলগালা করা এবং জাহাজীকরণ না হওয়া পর্যন্ত কাস্টমসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা। এছাড়া পুনঃরপ্তানির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের কোনো আর্থিক উৎস থেকে নতুন করে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে পাঠানো যাবে না।

এনবিআরের প্রস্তাবে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলা হয়েছে, ছাড়পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে সমগ্র পুনঃরপ্তানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। জাহাজীকরণের প্রমাণক ও ‘শিপড অন বোর্ড’ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার পরেই কেবল প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে। এনবিআরের এই প্রস্তাবনা এখন অর্থমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

30 October 2026

জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কাজে আসবে না: রাশেদ খাঁন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

কারখানায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তুরস্কে ফেরত যাচ্ছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারের যন্ত্রপাতি

হালনাগাদ সময় : ১০:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

কারখানায় প্রয়োজনীয় স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাংলাদেশে আমদানি করা ৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পূর্ণ নতুন ও অব্যবহৃত এক সেট শিল্প যন্ত্রপাতি তুরস্কে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের যৌথ মালিকানাধীন শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ‘লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড’ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে শুল্ক ও করমুক্ত সুবিধায় যন্ত্রপাতিটি পুনঃরপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্লট নম্বর ৫১৩-৬১৬-তে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি চলতি ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০১৫৩০-এর মাধ্যমে তুরস্ক থেকে এক সেট নতুন ‘সি-উইড প্রোডাকশন লাইন’ আমদানি করে। তবে কারখানা ভবনে যন্ত্রপাতির বড় আকারের তুলনায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর এটি মূল সরবরাহকারীর মনোনীত তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের কাছে পুনঃরপ্তানি করার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায় কোম্পানিটি।

আবেদনে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করে যে, আমদানি করা এই আধুনিক যন্ত্রপাতি দেশে কখনোই স্থাপন, চালু কিংবা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা পরীক্ষামূলক উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া আমদানির বিপরীতে ব্যাংক চ্যানেলে পরিশোধিত পুরো ৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ইতিমধ্যে পুনঃরপ্তানি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পুনঃরপ্তানির প্রাথমিক অনুমোদন দিলেও পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের একটি দল সরেজমিনে কারখানা পরিদর্শন করে। তাদের দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, যন্ত্রপাতিটি শতভাগ নতুন, অক্ষত ও সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে এবং এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যন্ত্রপাতি দেশে ব্যবহৃত না হওয়া, কাস্টমসের শতভাগ সন্তোষজনক পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং পরিশোধিত বৈদেশিক মুদ্রা সফলভাবে দেশে ফেরত আসায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে শর্তসাপেক্ষে শুল্ক-করমুক্ত সুবিধায় পুনঃরপ্তানির সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই পুনঃরপ্তানি সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিক কঠোর শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংক এবং বেপজার আনুষ্ঠানিক অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দাখিল করা; বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে যন্ত্রপাতির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করে কনটেইনার সিলগালা করা এবং জাহাজীকরণ না হওয়া পর্যন্ত কাস্টমসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা। এছাড়া পুনঃরপ্তানির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের কোনো আর্থিক উৎস থেকে নতুন করে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে পাঠানো যাবে না।

এনবিআরের প্রস্তাবে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলা হয়েছে, ছাড়পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে সমগ্র পুনঃরপ্তানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। জাহাজীকরণের প্রমাণক ও ‘শিপড অন বোর্ড’ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার পরেই কেবল প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে। এনবিআরের এই প্রস্তাবনা এখন অর্থমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

Share this news as a Photo Card