দেশের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী অঞ্চল চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর চাষিরা আড়তদারদের কাছে অতিরিক্ত আম দিতে বাধ্য হয়ে প্রতিবছর বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের শিকার হচ্ছেন। আম উদ্যোক্তা ও চাষিদের দাবি, প্রচলিত নিয়মের সুযোগ নিয়ে আড়তদাররা বাড়তি ওজন নেওয়ায় এই তিন জেলার চাষিরা বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতি নিরসনে এবং আমশিল্পের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিমন্ত্রীর কাছে ১১ দফা দাবি পেশ করেছেন আম উদ্যোক্তা আহসান হাবিব।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কেবল চাঁপাইনবাবগঞ্জেই বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। কিন্তু আড়তে প্রতি মণ আমের মাপে বাড়তি আম দিতে বাধ্য হওয়ায় জেলার চাষিদের বছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। এ ছাড়া রাজশাহী ও নওগাঁ জেলায় বাড়তি আম দেওয়ার কারণে প্রতিবছর আরও অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
আবেদনে বলা হয়, ৪০ থেকে ৪৫ কেজিতে এক মণ হিসেবে আম বিক্রিতে চাষিদের আপত্তি না থাকলেও অনেক আড়তদার প্রতি মণে ৫৪ থেকে ৫৭ কেজি পর্যন্ত আম আদায় করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত মোট আমের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এভাবে অতিরিক্ত হিসেবে চলে যায়। অথচ চাষিরা লোকসান গুনলেও সাধারণ ভোক্তারা এর কোনো সুফল পান না।
আমের ন্যায্য মূল্য ও সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছেন আম উদ্যোক্তা আহসান হাবিব। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেজিতে আম বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে হলে কার্যকর সরকারি নির্দেশনার বিকল্প নেই।
আমশিল্পের বিকাশ ও গবেষণায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই আবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট রাজারবাগানে ১০০ বিঘা জমিতে আম গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, শিবগঞ্জে আম চত্বর নির্মাণ এবং চা ও তুলা বোর্ডের মতো পৃথক ‘আম বোর্ড’ বা অধিদপ্তর গঠন।
আবেদনকারী জানান, বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল শিল্প পরিচালনার জন্য নিজস্ব কোনো বোর্ড নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে আমের ব্র্যান্ডিং, গবেষণা এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত আম বোর্ড গঠন অত্যন্ত জরুরি।
এ ছাড়া প্রান্তিক চাষিদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্তত ৫০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুৎচালিত ১০০টি সেচযন্ত্র বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জুস, ড্রাই ম্যাঙ্গো, আমসত্ত্ব ও আমের গুঁড়া তৈরির কারখানা স্থাপন করে আমের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন চাষিরা।


























