মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর লালমনিরহাট সদর উপজেলায় আগমন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে রাতের আঁধারে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
তিনদিনের সফরে লালমনিরহাটে এসে মন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তবে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ সারোয়ার আলম একসঙ্গে সার্কিট হাউসে গিয়ে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তাদের এই শুভেচ্ছা জানানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মন্তব্য করেছেন যে, সময়ের সাথে সাথে এই দুই নেতা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তাদের মতে, এই দুই নেতা নিজ স্বার্থে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে গেছেন। এছাড়াও, তারা অভিযোগ করেন যে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া অনেকেই এখন নিজেদের সুবিধার্থে মাঠে নেমেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সুবিধাবাদিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে যারা বিগত ১৭ বছর ধরে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না, তারাও এখন অবস্থান পরিবর্তন করছেন। এই পরিস্থিতি বিএনপির প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে ফেলছে। একই সঙ্গে, কেউ কেউ এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই তৃণমূলের রাজনীতিতে এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে, বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী এই ঘটনা সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করেন। তাদের মতে, অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এখন সকল দলের মন্ত্রী। তাকে যে কেউ ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে পারেন, এতে কোনো দোষ নেই। তারা আরও বলেন, যদি এই দুই নেতা আইনত কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে তা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের।
রিপোর্টারের নাম 












