কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নিজের কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও স্ত্রীকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক বিএনপি নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান বড়কান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। রোববার (আজ) কুমিল্লার একটি বিচারিক আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই নির্দেশ দেয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বড়কান্দা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোসা. লাভলী বেগম রামপুর বাজার থেকে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার সময় হামলার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় তার সঙ্গে থাকা কলেজপড়ুয়া মেয়েকেও মারধর করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সহকারে অটোরিকশাটি থামিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এই হামলায় মা ও মেয়ে উভয়েই আহত হন। বিশেষ করে, অভিযোগ অনুযায়ী কলেজপড়ুয়া মেয়েটিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং সে গুরুতর জখম হয়। আহত অবস্থায় তাদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী লাভলী বেগম জানান, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছিল। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, মনিরুজ্জামান একাধিক বিয়ে করেছেন এবং বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছেন। ঘটনার দিন তিনি এবং তাদের মেয়েকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লাভলী বেগম বাদী হয়ে মেঘনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আদালত মনিরুজ্জামানের জামিনের আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 












