ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সন্দ্বীপে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি ও সাইবার বুলিং, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সংবাদকর্মীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি ও নানাভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। একটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধি শামসুল আজম মুন্নাকে লক্ষ্য করে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নামধারী একদল উগ্র কর্মী-সমর্থক এই অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন ওই সংবাদকর্মী ‘ছাত্রশিবির নেতাকে পিটিয়ে জখম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। যদিও প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ ছিল না, তবুও স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের পরিচয়দানকারী বেশ কিছু ব্যক্তি একে নিজেদের দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করছেন। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে তারা ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটনা করছেন। এমনকি স্থানীয় এক ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ওই সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার হুমকিও দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মতো বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ খুলে ওই প্রতিনিধির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি করা হচ্ছে। এই সাইবার বুলিং ও হুমকির নেপথ্যে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন কর্মীর নাম উঠে এসেছে যারা সামাজিক মাধ্যমে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি সন্দ্বীপে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার প্রচার ও প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়ারও ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তারা।

বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার নজরে আনা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি হুমকিদাতাদের তালিকা প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে সাংবাদিকতা করুন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে কোনো বাধা সহ্য করা হবে না। আমি ভুল করলেও আমার সমালোচনা করতে দ্বিধা করবেন না।”

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও এই ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর আহত শিবির কর্মীকে দেখতে গিয়ে জানান, কোনো ধরনের উগ্রতা বা সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

শীর্ষ নেতাদের এমন ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল অবস্থান সত্ত্বেও তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মীর লাগামহীন ও উগ্র আচরণে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে এই সাইবার বুলিং ও হুমকির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

সন্দ্বীপে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি ও সাইবার বুলিং, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

আপডেট সময় : ০১:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সংবাদকর্মীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি ও নানাভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। একটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধি শামসুল আজম মুন্নাকে লক্ষ্য করে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নামধারী একদল উগ্র কর্মী-সমর্থক এই অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন ওই সংবাদকর্মী ‘ছাত্রশিবির নেতাকে পিটিয়ে জখম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। যদিও প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ ছিল না, তবুও স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের পরিচয়দানকারী বেশ কিছু ব্যক্তি একে নিজেদের দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করছেন। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে তারা ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটনা করছেন। এমনকি স্থানীয় এক ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ওই সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার হুমকিও দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মতো বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ খুলে ওই প্রতিনিধির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি করা হচ্ছে। এই সাইবার বুলিং ও হুমকির নেপথ্যে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন কর্মীর নাম উঠে এসেছে যারা সামাজিক মাধ্যমে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি সন্দ্বীপে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার প্রচার ও প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়ারও ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তারা।

বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার নজরে আনা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি হুমকিদাতাদের তালিকা প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে সাংবাদিকতা করুন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে কোনো বাধা সহ্য করা হবে না। আমি ভুল করলেও আমার সমালোচনা করতে দ্বিধা করবেন না।”

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও এই ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর আহত শিবির কর্মীকে দেখতে গিয়ে জানান, কোনো ধরনের উগ্রতা বা সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

শীর্ষ নেতাদের এমন ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল অবস্থান সত্ত্বেও তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মীর লাগামহীন ও উগ্র আচরণে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে এই সাইবার বুলিং ও হুমকির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।