হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারের মধ্যকার একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক যুবককে গ্রেফতার করা নিয়ে সৃষ্ট এই বাগবিতণ্ডার ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত জাতীয় নির্বাচনের মাসখানেক আগে মাসুক মিয়া নামের এক যুবককে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, মাসুক মিয়া ২০১৯ সালের স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে তাকে গ্রেফতারের পর উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা দাবি করেন যে, মাসুক ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী। তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন বিএনপি নেতারা।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, উপজেলা বিএনপি সভাপতি তোষার ওসি সাইফুল ইসলামকে লক্ষ্য করে মারমুখী ভাষায় কথা বলছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন। এক পর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাহুবলে চাকরি করতে হলে আমারে কইয়া করন লাগব’। তবে এই অডিওটি ঠিক কত তারিখের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুক মিয়ার গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য মখলিছুর রহমানও ওসির সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু ওসি তাতে সম্মত না হওয়ায় বিএনপির একটি অংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই সময় তিনি উপজেলা বিএনপি সভাপতির একটি কল রিসিভ করতে পারেননি। পরবর্তীতে অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে হলে তার অনুমতি লাগবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বিএনপি নেতা ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে তিনি ওসির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তোষারের দাবি, সংশ্লিষ্ট ওসি মহাসড়কে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করে তা আত্মসাৎ করেছেন এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি মৌখিকভাবে পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
রিপোর্টারের নাম 












