ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

শতবর্ষী বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া নেই, ভাষা শহীদদের স্মরণে বাঁশ-কাঠের মিনার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১০৯ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে, সেখানে আজও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জেলার অন্যান্য উপজেলায় যখন আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে, তখন এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি জরাজীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, একটি স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী মিনার তৈরি করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়াল জুড়ে বড় বড় ফাটল। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নিরুপায় হয়ে তারা তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টিতে কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বাঁশ, কাঠ ও কাগজ জোগাড় করে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই দেশপ্রেম প্রশংসার যোগ্য হলেও, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার সিংহ জানান, “আমাদের এই বিদ্যাপীঠটি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে শত বছরের সাক্ষী। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জেলার অন্যান্য প্রান্তে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মিত হলেও আমরা বরাবরের মতোই উন্নয়ন বঞ্চিত। আমাদের শিক্ষার্থীরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে নিজেদের হাতে বাঁশ-কাঠের মিনার বানায়—এটি যেমন গর্বের, তেমনি কর্তৃপক্ষের অবহেলার এক বড় প্রমাণ। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু আজো কোনো নতুন ভবন বা শহীদ মিনার নির্মাণের আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।”

এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলার অন্যান্য স্কুলে সরকারি বরাদ্দ পৌঁছালেও চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন বঞ্চিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে এখানে অবিলম্বে একটি আধুনিক ভবন ও স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করা জরুরি।

চাকুয়া গ্রামের বাসিন্দারা মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত না হলে এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

শতবর্ষী বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া নেই, ভাষা শহীদদের স্মরণে বাঁশ-কাঠের মিনার

আপডেট সময় : ১২:২১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১০৯ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে, সেখানে আজও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জেলার অন্যান্য উপজেলায় যখন আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে, তখন এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি জরাজীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, একটি স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী মিনার তৈরি করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়াল জুড়ে বড় বড় ফাটল। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নিরুপায় হয়ে তারা তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টিতে কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বাঁশ, কাঠ ও কাগজ জোগাড় করে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই দেশপ্রেম প্রশংসার যোগ্য হলেও, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার সিংহ জানান, “আমাদের এই বিদ্যাপীঠটি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে শত বছরের সাক্ষী। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জেলার অন্যান্য প্রান্তে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মিত হলেও আমরা বরাবরের মতোই উন্নয়ন বঞ্চিত। আমাদের শিক্ষার্থীরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে নিজেদের হাতে বাঁশ-কাঠের মিনার বানায়—এটি যেমন গর্বের, তেমনি কর্তৃপক্ষের অবহেলার এক বড় প্রমাণ। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু আজো কোনো নতুন ভবন বা শহীদ মিনার নির্মাণের আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।”

এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলার অন্যান্য স্কুলে সরকারি বরাদ্দ পৌঁছালেও চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন বঞ্চিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে এখানে অবিলম্বে একটি আধুনিক ভবন ও স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করা জরুরি।

চাকুয়া গ্রামের বাসিন্দারা মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত না হলে এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।