রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের নির্বাচনী রেশ কাটতে না কাটতেই হারাগাছ পৌরসভাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অত্র আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্ধারিত সফরকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি প্রথমে হরতালের ডাক দিলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হারাগাছ পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রে তার সমর্থকদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভোটার স্লিপ বিতরণের টেবিল ভাঙচুরসহ কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বিশেষ করে চর চাতুরী আদর্শ স্কুল, হারাগাছ মডেল কলেজ ও মোল্লাটারী কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
আখতার হোসেন আরও দাবি করেন, নির্বাচনের দিন বিকেলে ফলাফল সংগ্রহের সময় তিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার শিকার হন। এমনকি হারাগাছ মডেল কলেজ কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ ধানের শীষের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার অনুসারীরা তার পথরোধ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। ওই সময় প্রতিপক্ষ নিজেদের গাড়ির কাচ ভেঙে দায় চাপানোর চেষ্টা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। ভোটের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, হারাগাছে তার প্রাপ্ত ভোট আশানুরূপ না হলেও প্রতিটি ভোটই তার কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য জানান, এনসিপির বহু নেতাকর্মীর বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। প্রাণভয়ে অনেক পরিবার এখনো এলাকাছাড়া। এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হারাগাছ পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তদারক করতে হারাগাছে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আখতার হোসেন। তিনি জানান, গত দেড় বছরে হারাগাছ পৌরসভার অবকাঠামো ও স্যানিটেশন উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার কাজ দ্রুতই শুরু হবে। তবে তার এই সফরকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে সংসদ সদস্যের সফর এবং বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এলাকায়। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কন্ট্রোলরুম থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের তীক্ষ্ণ নজরদারি রয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 












