ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

চরফ্যাশনে পানির স্তর নিচে নামায় তীব্র সংকট: অকেজো অর্ধলক্ষ নলকূপ, বিপাকে জনজীবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক গভীর নলকূপ থেকে পানি না ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। সুপেয় পানির অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে পুকুর, খাল ও ডোবার দূষিত পানি ব্যবহার করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে চরফ্যাশন পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এতে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি অনেক মসজিদে পানির অভাবে মুসল্লিরা ওজু করতে পারছেন না, যার ফলে নামাজ আদায়েও বিঘ্ন ঘটছে। খোলা জলাশয়ের ময়লা ও অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহারের ফলে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চরফ্যাশন পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে প্রায় ১২ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার নলকূপ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় থাকা লক্ষাধিক নলকূপের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি এখন পানিশূন্য। সব মিলিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের প্রায় অর্ধলক্ষ নলকূপ থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে নলকূপগুলো থেকে নিরবচ্ছিন্ন পানি পাওয়া যেত, তা গত তিন মাস ধরে অকেজো হয়ে আছে। জাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, গত ৩০ বছর ধরে তিনি যে টিউবওয়েল ব্যবহার করছেন, কয়েক মাস ধরে সেটি দিয়ে আর পানি উঠছে না। পুরো এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি নলকূপ সচল থাকলেও সেখানে দীর্ঘ লাইন দিতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইরি-বোরো চাষের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পানি তোলায় সাধারণ নলকূপগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে।

চরফ্যাশন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন জানান, প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে পানির স্তর প্রায় দুই ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে পানির স্তরের এই পতন সুপেয় পানির সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

এই বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তবে বিএডিসির স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

চরফ্যাশনে পানির স্তর নিচে নামায় তীব্র সংকট: অকেজো অর্ধলক্ষ নলকূপ, বিপাকে জনজীবন

আপডেট সময় : ১০:০২:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক গভীর নলকূপ থেকে পানি না ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। সুপেয় পানির অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে পুকুর, খাল ও ডোবার দূষিত পানি ব্যবহার করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে চরফ্যাশন পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এতে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি অনেক মসজিদে পানির অভাবে মুসল্লিরা ওজু করতে পারছেন না, যার ফলে নামাজ আদায়েও বিঘ্ন ঘটছে। খোলা জলাশয়ের ময়লা ও অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহারের ফলে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চরফ্যাশন পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে প্রায় ১২ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার নলকূপ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় থাকা লক্ষাধিক নলকূপের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি এখন পানিশূন্য। সব মিলিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের প্রায় অর্ধলক্ষ নলকূপ থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে নলকূপগুলো থেকে নিরবচ্ছিন্ন পানি পাওয়া যেত, তা গত তিন মাস ধরে অকেজো হয়ে আছে। জাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, গত ৩০ বছর ধরে তিনি যে টিউবওয়েল ব্যবহার করছেন, কয়েক মাস ধরে সেটি দিয়ে আর পানি উঠছে না। পুরো এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি নলকূপ সচল থাকলেও সেখানে দীর্ঘ লাইন দিতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইরি-বোরো চাষের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পানি তোলায় সাধারণ নলকূপগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে।

চরফ্যাশন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন জানান, প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে পানির স্তর প্রায় দুই ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে পানির স্তরের এই পতন সুপেয় পানির সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

এই বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তবে বিএডিসির স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।