উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে এখন চলছে বোরো ধান চাষের মহোৎসব। বাজারে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বোরো আবাদে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকরা। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই জেলায় বোরো চারা রোপণ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও বর্তমানে মাঠজুড়ে চলছে চারা লাগানোর ব্যস্ততা। কোথাও কচি চারার সবুজ সমারোহ, আবার কোথাও চলছে জমি প্রস্তুত ও নিড়ানির কাজ।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলায় মোট ৩৩ হাজার ৯৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধান চাষ হচ্ছে ২৪ হাজার ৯৭৩ হেক্টর জমিতে এবং হাইব্রিড জাতের আবাদ হচ্ছে ৯ হাজার ২১ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার বাকি জমিতেও চারা রোপণ শেষ হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতির জন্য জেলায় ১ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, এবারও বোরো আবাদে শীর্ষে রয়েছে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা। বোদা উপজেলায় ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর এবং দেবীগঞ্জে ১০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। এছাড়া তেঁতুলিয়ায় ৪ হাজার ৯২৫ হেক্টর, আটোয়ারীতে ৪ হাজার ৩ হেক্টর এবং সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বোদা উপজেলার বড়শষী ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও ধানের বাজারমূল্য ভালো থাকায় তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় তিনি বড় কোনো দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন না। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নে। সেখানকার কৃষক আবু জানান, গত আমন মৌসুমে লোকসানের মুখে পড়ে তিনি এবার বোরো চাষ কমিয়ে দিয়ে একই জমিতে লাভজনক ভুট্টা ও বাদাম চাষে ঝুঁকেছেন।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মতিন জানান, গত বছরও জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত আবহাওয়া চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষকরা যদি সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে এবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন ঘরে তোলা সম্ভব হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 












