ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

জকিগঞ্জের শাহগলী-কোদালী খাল শুকিয়ে যাওয়ায় বিপন্ন কৃষি ও পরিবেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জকিগঞ্জ উপজেলার প্রাণপ্রবাহ শাহগলী ও কোদালী খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের খরস্রোতা এই দুটি জলাধার এখন মৃতপ্রায়, যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের জন্য এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। জরাজীর্ণ খালগুলো কেবল সেচের পানির উৎসই ছিল না, বরং বর্ষা মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারের অভাব এবং ভূমিদস্যুদের আগ্রাসন এই প্রাকৃতিক সম্পদকে আজ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জানা যায়, শাহগলী বাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই খালটি কোদালী খালের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু বর্তমানে উভয় খালেরই পানিপ্রবাহ প্রায় শূন্য। খাল খনন ও নিয়মিত সংস্কারের অভাব, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহে বাধা এবং নির্বিচারে দখলদারিত্বের ফলে খালগুলো তাদের স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে। একসময় বর্ষাকালে এই খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে আশেপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দিত এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে সাহায্য করত। কিন্তু আজ সেই দৃশ্য অতীত, এবং ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।

বারহাল ইউনিয়নের অন্যতম এই খাল শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার কৃষকরা মারাত্মক সেচের পানির সংকটে ভুগছেন। সময়মতো চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। এর পাশাপাশি, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণ ও নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট জনজীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলছে।

বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছেন। একজন স্থানীয় কৃষক জানান, “আগে খাল থেকেই সহজে সেচের পানি পেতাম, এখন অনেক টাকা খরচ করে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, আর আমাদের আয় কমছে।” অনেকেই মনে করেন, খালগুলো পুনরুজ্জীবিত না হলে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের এসও মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন যে তারা নাব্যতা হারানো সিলেটের সব খালের বিষয়ে তৎপর আছেন এবং শিগগিরই একটি ইতিবাচক খবর আশা করছেন। উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুসের মতে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ পেলে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। ইউএনও মাসুদুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন যে এ ধরনের কোনো কাজ তার হাতে নেই, তবে সুযোগ এলে তারা অবশ্যই কাজে লাগাবেন।

স্থানীয়রা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে কোদালী খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করবে এবং কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেবে। খালগুলো দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তারা কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

জকিগঞ্জের শাহগলী-কোদালী খাল শুকিয়ে যাওয়ায় বিপন্ন কৃষি ও পরিবেশ

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জকিগঞ্জ উপজেলার প্রাণপ্রবাহ শাহগলী ও কোদালী খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের খরস্রোতা এই দুটি জলাধার এখন মৃতপ্রায়, যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের জন্য এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। জরাজীর্ণ খালগুলো কেবল সেচের পানির উৎসই ছিল না, বরং বর্ষা মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারের অভাব এবং ভূমিদস্যুদের আগ্রাসন এই প্রাকৃতিক সম্পদকে আজ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জানা যায়, শাহগলী বাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই খালটি কোদালী খালের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু বর্তমানে উভয় খালেরই পানিপ্রবাহ প্রায় শূন্য। খাল খনন ও নিয়মিত সংস্কারের অভাব, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহে বাধা এবং নির্বিচারে দখলদারিত্বের ফলে খালগুলো তাদের স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে। একসময় বর্ষাকালে এই খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে আশেপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দিত এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে সাহায্য করত। কিন্তু আজ সেই দৃশ্য অতীত, এবং ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।

বারহাল ইউনিয়নের অন্যতম এই খাল শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার কৃষকরা মারাত্মক সেচের পানির সংকটে ভুগছেন। সময়মতো চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। এর পাশাপাশি, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণ ও নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট জনজীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলছে।

বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছেন। একজন স্থানীয় কৃষক জানান, “আগে খাল থেকেই সহজে সেচের পানি পেতাম, এখন অনেক টাকা খরচ করে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, আর আমাদের আয় কমছে।” অনেকেই মনে করেন, খালগুলো পুনরুজ্জীবিত না হলে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের এসও মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন যে তারা নাব্যতা হারানো সিলেটের সব খালের বিষয়ে তৎপর আছেন এবং শিগগিরই একটি ইতিবাচক খবর আশা করছেন। উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুসের মতে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ পেলে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। ইউএনও মাসুদুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন যে এ ধরনের কোনো কাজ তার হাতে নেই, তবে সুযোগ এলে তারা অবশ্যই কাজে লাগাবেন।

স্থানীয়রা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে কোদালী খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করবে এবং কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেবে। খালগুলো দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তারা কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।