চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ আজ রবিবার শেষ হচ্ছে। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে নগর ভবন কোন প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। এই পরিস্থিতিতে নতুন সিটি নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছেন বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত নিজেই। অন্যদিকে, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের সবকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার, যার ফলে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিটি নির্বাচন আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশের পর থেকেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ঘিরে নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। যদিও চসিক মেয়রের মেয়াদ শেষ হলেও মন্ত্রণালয় এখনো জানায়নি, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সিটি করপোরেশন কীভাবে পরিচালিত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকেই বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলগুলো সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে ৪১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তালিকাও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল।
বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত ইতোমধ্যে নতুন নির্বাচনে দল চাইলে ফের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তার দলের মধ্যে আরও কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ দেখালেও, ডা. শাহাদাতের এখনো কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দেখা যায়নি।
জামায়াত বা এর জোটের দলগুলো চসিক নির্বাচন জোটবদ্ধ হয়ে নাকি এককভাবে করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে উভয় পথেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে বলে জানা গেছে। দলটির একাধিক কাউন্সিলরের চসিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড থাকলেও, মেয়র পদে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে চট্টগ্রাম মহানগর আমির ও পরিবেশবিদ নজরুল ইসলামের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তাদের চসিক মেয়র প্রার্থী কে হবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রায় সব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। জোটের বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ভাবছে। সম্প্রতি এক বৈঠকে দলটির নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করলেও, এখনো কাউকে চূড়ান্ত করেননি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানা গেছে, তবে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে তারা কোনো প্রার্থী দেবে না।
জানা গেছে, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দ্রুত সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। এছাড়া নির্বাচন কমিশনে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য চিঠিও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই সিটি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিকের ষষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম এবং বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্রাথমিক ফলাফলে রেজাউল করিমকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও, ডা. শাহাদাত এই ফলাফলের বিরুদ্ধে আদালতে যান। আদালতের রায়ে ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন থেকে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি এবং পরবর্তীতে চসিক থেকে প্রশাসক বাদ দিয়ে ডা. শাহাদাতকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর শপথ গ্রহণ করেন এবং ৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চসিকের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এই নিয়মে ব্যত্যয় ঘটেছে, কারণ আজ রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানান, দল কাকে মেয়র প্রার্থী করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেকে ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন, তবে আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হোক, তারপর তারা এসব সিদ্ধান্তে যাবেন। কাউন্সিলর পদেও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 












