মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে জিম্মি ২০ জেলে: এক সপ্তাহেও মেলেনি মুক্তি, ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে দস্যু বাহিনীর হাতে অপহৃত ২০ জেলের এখনো মুক্তি মেলেনি, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তারা জিম্মি রয়েছেন। অপহৃতদের মুক্তির জন্য দস্যুরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজনদের কাছে মোট ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে, যা জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দস্যু ও মহাজনদের মধ্যে মুক্তিপণের পরিমাণ নিয়ে দেনদরবার চলছে। এই অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কে সুন্দরবনের সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর কাছে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে এই ২০ জেলেকে অপহরণ করে দুর্ধর্ষ বন ও জলদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, অপহৃত জেলেদের মহাজনদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে দস্যুরা জনপ্রতি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের জন্য তারা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। মুক্তিপণ দ্রুত পরিশোধ না করলে জিম্মি জেলেদের ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মাছ ধরার জন্য আগাম চাঁদা দিতে হবে বলেও জানিয়েছে দস্যুবাহিনী।

অপহরণের আতঙ্কে শরণখোলা রেঞ্জের নিয়মিত জেলেরা প্রায় চারদিন মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা লোকসান গুণছেন এবং হাজার হাজার দরিদ্র জেলের আর্থিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কিছু কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাওয়া শুরু করলেও বনবিভাগ জেলেদের চরের কাছাকাছি দূরত্বে থেকে মাছ আহরণ এবং দিনে দিনে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

বঙ্গোপসাগরে জিম্মি ২০ জেলে: এক সপ্তাহেও মেলেনি মুক্তি, ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে দস্যু বাহিনীর হাতে অপহৃত ২০ জেলের এখনো মুক্তি মেলেনি, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তারা জিম্মি রয়েছেন। অপহৃতদের মুক্তির জন্য দস্যুরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজনদের কাছে মোট ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে, যা জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দস্যু ও মহাজনদের মধ্যে মুক্তিপণের পরিমাণ নিয়ে দেনদরবার চলছে। এই অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কে সুন্দরবনের সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর কাছে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে এই ২০ জেলেকে অপহরণ করে দুর্ধর্ষ বন ও জলদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, অপহৃত জেলেদের মহাজনদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে দস্যুরা জনপ্রতি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের জন্য তারা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। মুক্তিপণ দ্রুত পরিশোধ না করলে জিম্মি জেলেদের ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মাছ ধরার জন্য আগাম চাঁদা দিতে হবে বলেও জানিয়েছে দস্যুবাহিনী।

অপহরণের আতঙ্কে শরণখোলা রেঞ্জের নিয়মিত জেলেরা প্রায় চারদিন মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা লোকসান গুণছেন এবং হাজার হাজার দরিদ্র জেলের আর্থিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কিছু কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাওয়া শুরু করলেও বনবিভাগ জেলেদের চরের কাছাকাছি দূরত্বে থেকে মাছ আহরণ এবং দিনে দিনে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।