ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ‘ইনকিলাব’ নয়, ‘বাংলা’ ধারণের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ: মাতৃভাষার প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা ও মর্যাদাকে ধারণ করতে হলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’-এর মতো স্লোগান পরিহার করে বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষাকেই গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে ভাষা আন্দোলন সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করে বাংলাকে আপন করে নিতে হবে। শনিবার (১১টা) সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃভাষার প্রতি যদি সত্যিকারের ভালোবাসা থাকে, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’-এর মতো স্লোগান অর্থহীন। এই স্লোগান আমাদের ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যারা আমাদের মাতৃভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত স্লোগানকে কেন আমরা ধারণ করব?’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যারা বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করছে, তাদের মধ্যে অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে ভাবেন না। আমি যা বলছি, তা হয়তো অনেকের কাছে ভিন্ন মনে হতে পারে। অনেকে আমাকে ভিন্ন নামেও ডাকতে পারে। কিন্তু আমি সত্য কথা বলব, কারণ আমি এই দেশের জন্য, এই ভাষার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আজ আমি মন্ত্রী হয়েছি, এই দেশ তৈরি হয়েছে বলেই। তাই দেশকে ভালোবাসতে হলে, আমাদের ভাষাকে ভালোবাসতে হবে, আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বাংলা ভাষার মতো সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য খুব কম ভাষারই আছে। এই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা নিজেদের ভালোবাসো, নিজেদের দেশকে ভালোবাসো। যা কিছু তোমাদের, তাকেই ভালোবাসো। নিজের ভাষা, নিজের সংস্কৃতি—এসবই আমাদের গড়ে তুলতে হবে। কেউ এসে গড়ে দেবে না।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা নিজের ভাষাটাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টাও করিনি। আজকালের ছেলেমেয়েরা ‘ইনকিলাব’ বলে, কিন্তু এই স্লোগানটি আমাদের ভাষার সঙ্গে বেমানান। যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের এই স্লোগান কেন আমরা ব্যবহার করব?’

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক কামরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আজিজুর রহমান দুলাল। অনুষ্ঠানে শহিদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং ভাষা সৈনিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। এছাড়াও, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ‘ইনকিলাব’ নয়, ‘বাংলা’ ধারণের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৭:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জ: মাতৃভাষার প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা ও মর্যাদাকে ধারণ করতে হলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’-এর মতো স্লোগান পরিহার করে বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষাকেই গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে ভাষা আন্দোলন সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করে বাংলাকে আপন করে নিতে হবে। শনিবার (১১টা) সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃভাষার প্রতি যদি সত্যিকারের ভালোবাসা থাকে, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’-এর মতো স্লোগান অর্থহীন। এই স্লোগান আমাদের ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যারা আমাদের মাতৃভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত স্লোগানকে কেন আমরা ধারণ করব?’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যারা বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করছে, তাদের মধ্যে অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে ভাবেন না। আমি যা বলছি, তা হয়তো অনেকের কাছে ভিন্ন মনে হতে পারে। অনেকে আমাকে ভিন্ন নামেও ডাকতে পারে। কিন্তু আমি সত্য কথা বলব, কারণ আমি এই দেশের জন্য, এই ভাষার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আজ আমি মন্ত্রী হয়েছি, এই দেশ তৈরি হয়েছে বলেই। তাই দেশকে ভালোবাসতে হলে, আমাদের ভাষাকে ভালোবাসতে হবে, আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বাংলা ভাষার মতো সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য খুব কম ভাষারই আছে। এই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা নিজেদের ভালোবাসো, নিজেদের দেশকে ভালোবাসো। যা কিছু তোমাদের, তাকেই ভালোবাসো। নিজের ভাষা, নিজের সংস্কৃতি—এসবই আমাদের গড়ে তুলতে হবে। কেউ এসে গড়ে দেবে না।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা নিজের ভাষাটাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টাও করিনি। আজকালের ছেলেমেয়েরা ‘ইনকিলাব’ বলে, কিন্তু এই স্লোগানটি আমাদের ভাষার সঙ্গে বেমানান। যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের এই স্লোগান কেন আমরা ব্যবহার করব?’

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক কামরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আজিজুর রহমান দুলাল। অনুষ্ঠানে শহিদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং ভাষা সৈনিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। এছাড়াও, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।