ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

‘জুলাই সনদ’ অবমাননার অভিযোগ: সংসদের ফ্লোরে আলোচনার হুঁশিয়ারি জামায়াতের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাসীন দল সরকার গঠনের পরপরই ‘জুলাই সনদ’কে উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংসদ অধিবেশন শুরু হলেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এটিএম আজহারুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে সাধারণ ভোটাররা বিপুলভাবে রায় দিয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করলেও, বর্তমানে ক্ষমতায় এসে তারা তা অস্বীকার করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

শনিবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেতা-কর্মীদের ফুল দিয়ে বরণকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন’ এবং এর ভিত্তিতে গৃহীত গণভোটের ফলেই আজ স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই আন্দোলন না হলে অনেককে দীর্ঘ কারাবাস করতে হতো অথবা দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হতো। তাই ‘জুলাই সনদ’কে অস্বীকার করা মানে এই নির্বাচনকেই অস্বীকার করা। তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়িত না হলে নির্বাচনের কোনো মূল্য থাকবে না। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ এলাকার জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দল-মত নির্বিশেষে বিপুল ভোটে তাকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি নয়, বরং সকলকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। এখানে কোনো প্রকার বিদ্বেষ বা ক্ষোভের প্রকাশ যেন না হয়, সেদিকে তিনি সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সমান দৃষ্টিতে দেখা হবে। এই এলাকার সকল মানুষ সমান এবং কারো ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা রক্ষা করাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, বরং মানুষের আচরণ, কাজ এবং কর্মের মাধ্যমেই তাদের মূল্যায়ন হবে।

এটিএম আজহারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে এত বিপুল ভোটে এর আগে কেউ নির্বাচিত হয়নি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা রক্ষা করতে তিনি বদ্ধপরিকর। যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, তিনি সকলেরই সংসদ সদস্য।

তিনি স্মরণ করেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ১৪ বছর কারাবন্দী ছিলেন। এর আগেও তিনি এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থেকে অনেক কাজ করেছেন। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় কাজ করার সুযোগ আরও বেড়েছে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তিনি কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে দেশের উন্নয়নেও তিনি আরও বেশি ভূমিকা পালন করতে চান।

এ সময় বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরার সভাপতিত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা জামায়াতের সদস্য আব্দুল হান্নান, বদরগঞ্জ উপজেলা আমির কামরুজ্জামান, নায়েবে আমির শাহ মোহাম্মদ রোস্তম আলীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

‘জুলাই সনদ’ অবমাননার অভিযোগ: সংসদের ফ্লোরে আলোচনার হুঁশিয়ারি জামায়াতের

আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্ষমতাসীন দল সরকার গঠনের পরপরই ‘জুলাই সনদ’কে উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংসদ অধিবেশন শুরু হলেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এটিএম আজহারুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে সাধারণ ভোটাররা বিপুলভাবে রায় দিয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করলেও, বর্তমানে ক্ষমতায় এসে তারা তা অস্বীকার করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

শনিবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেতা-কর্মীদের ফুল দিয়ে বরণকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন’ এবং এর ভিত্তিতে গৃহীত গণভোটের ফলেই আজ স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই আন্দোলন না হলে অনেককে দীর্ঘ কারাবাস করতে হতো অথবা দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হতো। তাই ‘জুলাই সনদ’কে অস্বীকার করা মানে এই নির্বাচনকেই অস্বীকার করা। তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়িত না হলে নির্বাচনের কোনো মূল্য থাকবে না। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ এলাকার জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দল-মত নির্বিশেষে বিপুল ভোটে তাকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি নয়, বরং সকলকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। এখানে কোনো প্রকার বিদ্বেষ বা ক্ষোভের প্রকাশ যেন না হয়, সেদিকে তিনি সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সমান দৃষ্টিতে দেখা হবে। এই এলাকার সকল মানুষ সমান এবং কারো ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা রক্ষা করাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, বরং মানুষের আচরণ, কাজ এবং কর্মের মাধ্যমেই তাদের মূল্যায়ন হবে।

এটিএম আজহারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে এত বিপুল ভোটে এর আগে কেউ নির্বাচিত হয়নি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা রক্ষা করতে তিনি বদ্ধপরিকর। যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, তিনি সকলেরই সংসদ সদস্য।

তিনি স্মরণ করেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ১৪ বছর কারাবন্দী ছিলেন। এর আগেও তিনি এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থেকে অনেক কাজ করেছেন। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় কাজ করার সুযোগ আরও বেড়েছে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তিনি কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে দেশের উন্নয়নেও তিনি আরও বেশি ভূমিকা পালন করতে চান।

এ সময় বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরার সভাপতিত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা জামায়াতের সদস্য আব্দুল হান্নান, বদরগঞ্জ উপজেলা আমির কামরুজ্জামান, নায়েবে আমির শাহ মোহাম্মদ রোস্তম আলীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।