মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হয়েছে। বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে জাতীয় শহীদ মিনার সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় শহীদ মিনারগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব আয়োজনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য স্মরণ করেছে।
বিস্তারিত বর্ণনা:
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারগুলোতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এই সময়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা, থানা, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং ভেড়ামারা সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে সর্বস্তরের জনসাধারণ পুষ্পস্তবক ও ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় তাঁদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তাঁরা। উপজেলা প্রশাসন, থানা, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি কলেজ এবং প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেয়।
সাতক্ষীরাবাসী বিনম্র শ্রদ্ধা আর গভীর ভালোবাসায় অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে। জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সদর উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জি কে গউছ ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। এরপর পৌরসভা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুস্পঞ্জলী অর্পণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে তোলেন।
বাগেরহাটের মোংলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহীনুর রহমান শাহীন এবং ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস, এসিল্যান্ড রিফাত জাহান, ওসি এসএম আরিফুর রহমান সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ চত্বরের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
মানিকগঞ্জে জেলা প্রশাসন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পুলিশ সুপার মোঃ সারওয়ার আলম সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান, প্রেসক্লাব, সম্পাদক পরিষদ, টেলিভিশন রিপোর্টারস ইউনিটি, উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সংগঠন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও এর তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশ গুলি বর্ষণ করে। এতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বার সহ অনেক ছাত্র শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এই দিনটি বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষা ব্যবহারকারীদের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
রিপোর্টারের নাম 












