ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

মাতৃভাষার ত্যাগে স্মরণ: নবনির্বাচিত এমপির নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ, প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। একুশের প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিটে সীতাকুণ্ড উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আলমগীরসহ থানা প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে, পরে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর সীতাকুণ্ড ফ্যাসিবাদমুক্ত প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীরদের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক্তার কমল কদর এবং সঞ্চালনা করেন মো. মোরসালিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন শুধু বাঙালির ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গের এমন বিরল নজির বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা এসেছিল। ভাষা শহীদদের আত্মদান আমাদের জাতীয় জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে চিরকাল। নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ভালোবাসার মাধ্যমে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানজুড়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় স্বকীয়তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

মাতৃভাষার ত্যাগে স্মরণ: নবনির্বাচিত এমপির নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ১০:৫২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ, প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। একুশের প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিটে সীতাকুণ্ড উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আলমগীরসহ থানা প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে, পরে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর সীতাকুণ্ড ফ্যাসিবাদমুক্ত প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীরদের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক্তার কমল কদর এবং সঞ্চালনা করেন মো. মোরসালিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন শুধু বাঙালির ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গের এমন বিরল নজির বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা এসেছিল। ভাষা শহীদদের আত্মদান আমাদের জাতীয় জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে চিরকাল। নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ভালোবাসার মাধ্যমে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানজুড়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় স্বকীয়তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা।