ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে ভোট উৎসবে নারীদের বিপুল উপস্থিতি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ও জুলাই বিপ্লবের স্মরণে উচ্ছ্বাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। প্রখর রোদ আর দীর্ঘ অপেক্ষা উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো নারী। ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে তাদের চোখে-মুখে ছিল প্রাপ্তির আনন্দ। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেক ভোটারকেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেলফি তুলতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরের লালখান বাজার এলাকার আয়েশা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রে জীবনের প্রথম ভোট দেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের বাসিন্দা মোছাম্মৎ আয়েশা আক্তার। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত আয়েশা বলেন, “অনেক আগে ভোটার হলেও বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আজ ভোট দিতে পেরে মনের আক্ষেপ ঘুচেছে। জুলাই বিপ্লবের ফলেই আজ আমরা এই গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছি, তাই সেই বীরদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”

ভোট দেওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সাজেদা আক্তার নামের আরেক ভোটার জানান, শুরুতে ভোট দেওয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের ভোটটি দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তবে মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার রিমি আক্তার জানান, ব্যালট পেপার দুটি হওয়ায় এবং ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের বেশ কষ্ট পোহাতে হয়েছে। এরপরও নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নারীরা এই দিনটিকে একটি উৎসব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ভোটকেন্দ্রের বাইরে অনেককেই প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্যাগ দিয়ে নিজেদের ভালো লাগার কথা জানাতে দেখা যায়।

এদিকে, নগরের প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই সকাল থেকে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগ উঠলেও প্রিজাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন, দুটি ভিন্ন ব্যালট এবং অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত না থাকায় তাদের বুঝিয়ে দিতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগছে। তবে সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণের পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সন্তোষজনক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের সবশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রামে ভোট উৎসবে নারীদের বিপুল উপস্থিতি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ও জুলাই বিপ্লবের স্মরণে উচ্ছ্বাস

আপডেট সময় : ০৭:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। প্রখর রোদ আর দীর্ঘ অপেক্ষা উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো নারী। ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে তাদের চোখে-মুখে ছিল প্রাপ্তির আনন্দ। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেক ভোটারকেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেলফি তুলতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরের লালখান বাজার এলাকার আয়েশা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রে জীবনের প্রথম ভোট দেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের বাসিন্দা মোছাম্মৎ আয়েশা আক্তার। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত আয়েশা বলেন, “অনেক আগে ভোটার হলেও বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আজ ভোট দিতে পেরে মনের আক্ষেপ ঘুচেছে। জুলাই বিপ্লবের ফলেই আজ আমরা এই গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছি, তাই সেই বীরদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”

ভোট দেওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সাজেদা আক্তার নামের আরেক ভোটার জানান, শুরুতে ভোট দেওয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের ভোটটি দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তবে মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার রিমি আক্তার জানান, ব্যালট পেপার দুটি হওয়ায় এবং ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের বেশ কষ্ট পোহাতে হয়েছে। এরপরও নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নারীরা এই দিনটিকে একটি উৎসব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ভোটকেন্দ্রের বাইরে অনেককেই প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্যাগ দিয়ে নিজেদের ভালো লাগার কথা জানাতে দেখা যায়।

এদিকে, নগরের প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই সকাল থেকে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগ উঠলেও প্রিজাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন, দুটি ভিন্ন ব্যালট এবং অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত না থাকায় তাদের বুঝিয়ে দিতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগছে। তবে সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণের পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সন্তোষজনক।