ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

যৌক্তিক কারণ ছাড়া ভোট বর্জনের ইচ্ছা নেই: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জানিয়েছেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকলেও জনমনে শঙ্কা ও ভয়ভীতি কাজ করছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়, তবে জনগণের রায় হিসেবে পরাজয় মেনে নিতেও তার কোনো দ্বিধা নেই।

এদিকে, উৎসবমুখর ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে এই প্রক্রিয়া চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‍্যাব ও সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের ৯০ শতাংশেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দ্রুত জানাতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং হটলাইন নম্বর ‘৩৩৩’ সচল রাখা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ব্যালট। প্রথমবারের মতো ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ জন প্রবাসী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি ব্যালট ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। এই ভোটগুলো মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের দিক থেকেও এবারের নির্বাচন রেকর্ড গড়েছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা এবার ৮০ জন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলেরও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক ঢাকা পৌঁছেছেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে ৫৫ হাজারের বেশি দেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়া শেষে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইসি আশা করছে, ভোট গণনা শেষে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। এখন কেবল একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় পুরো জাতি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের সবশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

যৌক্তিক কারণ ছাড়া ভোট বর্জনের ইচ্ছা নেই: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আপডেট সময় : ০৭:২০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জানিয়েছেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকলেও জনমনে শঙ্কা ও ভয়ভীতি কাজ করছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়, তবে জনগণের রায় হিসেবে পরাজয় মেনে নিতেও তার কোনো দ্বিধা নেই।

এদিকে, উৎসবমুখর ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে এই প্রক্রিয়া চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‍্যাব ও সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের ৯০ শতাংশেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দ্রুত জানাতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং হটলাইন নম্বর ‘৩৩৩’ সচল রাখা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ব্যালট। প্রথমবারের মতো ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ জন প্রবাসী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি ব্যালট ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। এই ভোটগুলো মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের দিক থেকেও এবারের নির্বাচন রেকর্ড গড়েছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা এবার ৮০ জন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলেরও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক ঢাকা পৌঁছেছেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে ৫৫ হাজারের বেশি দেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়া শেষে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইসি আশা করছে, ভোট গণনা শেষে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। এখন কেবল একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় পুরো জাতি।