ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ফেনীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন খালেদা জিয়া

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফেনীর মানুষের হৃদয়ে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন প্রেরণার প্রতীক। ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান

ফেনীর শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান স্মরণযোগ্য। ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, ফেনী সরকারি কলেজ ও ফেনী জিয়া মহিলা কলেজে অনার্স কোর্স চালু এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন ও জাতীয়করণ নিশ্চিত করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফেনীর শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নারী শিক্ষার প্রসার সম্প্রসারিত হয়।

স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন খালেদা জিয়া। ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ট্রমা হাসপাতাল স্থাপন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন ও সেবার পরিধি সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে চিকিৎসা সহজলভ্য ও উন্নত হয়।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন

বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জেলা প্রশাসন ও সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে জেলা হেডকোয়ার্টার ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, ফুলগাজীকে নতুন উপজেলা ঘোষণা এবং উপজেলা হেডকোয়ার্টারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়। এ ছাড়া উপজেলার শহরগুলোকে পৌর শহরে রূপান্তর করে প্রশাসনিক কার্যক্রম সুসংগঠিত করা হয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ফেনী-বিলোনিয়া রেল যোগাযোগ পূর্ণভাবে চালু করা হয় তার সরকারের আমলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ নিশ্চিত করা হয়। ফেনী-পরশুরাম, ফেনী-ছাগলনাইয়া ও ফেনী-নোয়াখালী সড়কসহ গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন করা হয়। এসব উন্নয়নের ফলে জেলার ব্যবসা, যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে বিশেষ গতি আসে।

বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন

শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মুহুরী গঞ্জে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন করা হয়। কম্পিউটার ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং সোনাগাজীতে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে জেলাকে এগিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় মুহুরী ও কুহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মুহুরী সেচ প্রকল্পের উন্নয়ন এবং সোনাগাজী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়। ফলে কৃষি উৎপাদন ও নিরাপত্তা বেড়ে যায়।

সামাজিক ও যুব উন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, ফুলগাজী যুব উন্নয়ন কমপ্লেক্স এবং সার্কিট হাউজ নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ফেনী শহরকে ‘নাইন সিটি’ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক নগরে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

ফেনীর গর্ব

ফেনীর মানুষ খালেদা জিয়াকে শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই নয়, বরং ফেনীর মেয়ে, অভিভাবক ও গর্বের প্রতীক মনে করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ফুলগাজীর দক্ষিণ শ্রীপুরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মিলনের কেন্দ্রস্থল ছিল। 

জেলাজুড়ে তার অবদানের কথা স্মরণ করে ফেনী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ওরফে ভিপি জয়নাল বলেন, ‘ফেনীর অগ্রগতি ও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমরা তাকে কেবল নেতা নয়, ফেনীর গর্ব হিসেবে মনে রাখবো। জেলাজুড়ে তার সরকারের সময়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে।’

আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ফেনী আধুনিক ও পরিকল্পিত জেলা হিসেবে গড়ে উঠেছে। সবক্ষেত্রে উন্নয়নে ছোঁয়া লেগেছিল।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী মানিক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া আমাদের জন্য এক অমূল্য প্রতীক। তার নির্দেশনায় ফেনী আজ শিক্ষার, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর উন্নয়নে অগ্রগামী।

প্রবীণ সাংবাদিক ওসমান হারুন মামুদ দুলাল বলেন, ‘ফেনীর মানুষের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আবেগ ও সম্পর্কের গভীরতা প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়েছে। খালেদা জিয়া সরকারের নেতৃত্ব ও নীতিগত সহায়তায় ফেনীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, প্রশাসন, শিল্পায়ন, কৃষি ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করে। তার এই অবদান ফেনীর মানুষ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন খালেদা জিয়া

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফেনীর মানুষের হৃদয়ে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন প্রেরণার প্রতীক। ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান

ফেনীর শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান স্মরণযোগ্য। ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, ফেনী সরকারি কলেজ ও ফেনী জিয়া মহিলা কলেজে অনার্স কোর্স চালু এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন ও জাতীয়করণ নিশ্চিত করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফেনীর শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নারী শিক্ষার প্রসার সম্প্রসারিত হয়।

স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন খালেদা জিয়া। ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ট্রমা হাসপাতাল স্থাপন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন ও সেবার পরিধি সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে চিকিৎসা সহজলভ্য ও উন্নত হয়।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন

বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জেলা প্রশাসন ও সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে জেলা হেডকোয়ার্টার ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, ফুলগাজীকে নতুন উপজেলা ঘোষণা এবং উপজেলা হেডকোয়ার্টারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়। এ ছাড়া উপজেলার শহরগুলোকে পৌর শহরে রূপান্তর করে প্রশাসনিক কার্যক্রম সুসংগঠিত করা হয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ফেনী-বিলোনিয়া রেল যোগাযোগ পূর্ণভাবে চালু করা হয় তার সরকারের আমলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ নিশ্চিত করা হয়। ফেনী-পরশুরাম, ফেনী-ছাগলনাইয়া ও ফেনী-নোয়াখালী সড়কসহ গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন করা হয়। এসব উন্নয়নের ফলে জেলার ব্যবসা, যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে বিশেষ গতি আসে।

বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন

শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মুহুরী গঞ্জে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন করা হয়। কম্পিউটার ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং সোনাগাজীতে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে জেলাকে এগিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় মুহুরী ও কুহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মুহুরী সেচ প্রকল্পের উন্নয়ন এবং সোনাগাজী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়। ফলে কৃষি উৎপাদন ও নিরাপত্তা বেড়ে যায়।

সামাজিক ও যুব উন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, ফুলগাজী যুব উন্নয়ন কমপ্লেক্স এবং সার্কিট হাউজ নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ফেনী শহরকে ‘নাইন সিটি’ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক নগরে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

ফেনীর গর্ব

ফেনীর মানুষ খালেদা জিয়াকে শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই নয়, বরং ফেনীর মেয়ে, অভিভাবক ও গর্বের প্রতীক মনে করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ফুলগাজীর দক্ষিণ শ্রীপুরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মিলনের কেন্দ্রস্থল ছিল। 

জেলাজুড়ে তার অবদানের কথা স্মরণ করে ফেনী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ওরফে ভিপি জয়নাল বলেন, ‘ফেনীর অগ্রগতি ও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমরা তাকে কেবল নেতা নয়, ফেনীর গর্ব হিসেবে মনে রাখবো। জেলাজুড়ে তার সরকারের সময়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে।’

আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ফেনী আধুনিক ও পরিকল্পিত জেলা হিসেবে গড়ে উঠেছে। সবক্ষেত্রে উন্নয়নে ছোঁয়া লেগেছিল।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী মানিক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া আমাদের জন্য এক অমূল্য প্রতীক। তার নির্দেশনায় ফেনী আজ শিক্ষার, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর উন্নয়নে অগ্রগামী।

প্রবীণ সাংবাদিক ওসমান হারুন মামুদ দুলাল বলেন, ‘ফেনীর মানুষের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আবেগ ও সম্পর্কের গভীরতা প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়েছে। খালেদা জিয়া সরকারের নেতৃত্ব ও নীতিগত সহায়তায় ফেনীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, প্রশাসন, শিল্পায়ন, কৃষি ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করে। তার এই অবদান ফেনীর মানুষ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’