বয়সের হিসাবটা ৩৯! ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে যখন আলোচনা, তখন লিওনেল মেসি ব্যস্ত নতুন নতুন ইতিহাস লেখায়। ফুটবল মাঠে তার ক্ষুধা যে এখনো কমেনি, তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জিতে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মেসির ব্যক্তিগত সাফল্যের দিনটি অবশ্য দলীয়ভাবে রাঙাতে পারেনি ইন্টার মায়ামি। নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে শার্লট এফসির বিপক্ষে তিন গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি তারা। নিজেদের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মায়ামিকে। ম্যাচে গোলের খাতায় নাম লেখাতে পারেননি মেসি। তবে গোল না করেও দলের প্রথম দুটি গোলের পেছনে অবদান ছিল তাঁর কর্নার কিকের।
মাঠের ফলাফল যা-ই হোক, ব্যক্তিগত অর্জনে মেসির দিনটি ছিল স্মরণীয়। নিয়মিত মৌসুমে ৩১ ম্যাচ খেলে ২৬ গোল করেছেন তিনি। গোলসংখ্যায় তার ধারেকাছেও যেতে পারেননি অন্যরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি ডালাসের পেতার মুসার গোল ২২টি। ন্যাশভিলের স্যাম সারিজ ২১ গোল নিয়ে তৃতীয় এবং ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের ব্রায়ান হোয়াইট ২০ গোল করে রয়েছেন চতুর্থ স্থানে।
মজার ব্যাপার হলো, মেসির অবদান কেবল গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সতীর্থদের দিয়ে ১৭টি গোল করিয়েছেন তিনি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার অবদান ৪৩ গোলে, যা পুরো লিগে সর্বোচ্চ। মায়ামির আক্রমণভাগের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই জড়িয়ে ছিল তার নাম।
মেসির গোল করার ক্ষুধার আরেকটি পরিসংখ্যানও চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত মৌসুমে ১৮৩টি শট নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৭৬টি ছিল লক্ষ্যে। দুই বিভাগেই লিগের অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে এই আর্জেন্টাইন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শট নেওয়া মিলান ইলোস্কির প্রচেষ্টা ১২২টি, আর লক্ষ্যে শটের হিসাবে মেসির পরেই রয়েছেন ডেনিস বুয়াঙ্গা, যার সংখ্যা ৫১।
মৌসুমজুড়ে মেসির এমন ধারাবাহিকতার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ ছিল মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে ম্যাচটি। আগস্টে মায়ামির ৭-১ গোলের জয়ে একাই চারবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে যেন নিজের সামর্থ্যের আরেকটি প্রদর্শনী দেখিয়েছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
গত মৌসুমেও গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মেসি। এবার গোলসংখ্যা তিনটি কমলেও ধারাবাহিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না। বরং পরপর দুই মৌসুমে গোল্ডেন বুট জিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল মঞ্চেও তার আধিপত্য কতটা শক্তিশালী।
মেসির এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ইন্টার মায়ামির কোচ ক্রিশ্চিয়ান গনজালেসও। তার চোখে মেসিই সর্বকালের সেরা। শুধু এমএলএসের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার যোগ্য নন, বরং তার মতে, মেসির প্রাপ্য ছিল ব্যালন ডি’অরও। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সতীর্থদের প্রতি সম্মান ও মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার বিষয়টিকে অবিশ্বাস্য বলেই মনে করেন তিনি।

























