মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:১৯ অপরাহ্ন | ৮ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার, ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

দিনে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার দর্শনার্থী: সেন্টমার্টিন রুটে ফিরল পর্যটনের প্রাণচাঞ্চল্য

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে কক্সবাজার থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর পর্যটকদের নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করে তিনটি জাহাজ—এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।

জাহাজমালিকদের শীর্ষ সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, যাত্রীর সংখ্যা বিবেচনা না করে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাহাজ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকেই সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতি মেলার পরই জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হয়।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে নিয়মিতভাবে এই জাহাজগুলো চলাচল করবে। তিনটি জাহাজে মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়া বহন করতে পারে ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলী ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফে আসন রয়েছে ৭১৬ জনের। সময়সূচি অনুযায়ী এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ে সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা করবে।

সংশোধিত সরকারি নির্দেশনা অনুসারে, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াত ও রাত্রিযাপন করার সুযোগ পাবেন। তবে দ্বীপের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক যাওয়ার অনুমতি রাখা হয়েছে। সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে দিতে হবে ১০০ টাকা।

দ্বীপটির সংবেদনশীল পরিবেশ ও বিপন্ন জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। রাতের বেলায় সৈকত কিংবা আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের কৃত্রিম আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম বাজানো এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল ছেঁড়া বা কেনাবেচা পুরোপুরি বারণ। যেকোনো সামুদ্রিক প্রাণী, প্রবাল ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি সৈকতের বালুতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্য কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না।

জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণপ্রেমী পর্যটকদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। তবে একই সঙ্গে দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে সব দর্শনার্থীকে সরকারি বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালনের তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

08 November 2026

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন গতি: সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

দিনে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার দর্শনার্থী: সেন্টমার্টিন রুটে ফিরল পর্যটনের প্রাণচাঞ্চল্য

হালনাগাদ সময় : ১০:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে কক্সবাজার থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর পর্যটকদের নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করে তিনটি জাহাজ—এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।

জাহাজমালিকদের শীর্ষ সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, যাত্রীর সংখ্যা বিবেচনা না করে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাহাজ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকেই সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতি মেলার পরই জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হয়।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে নিয়মিতভাবে এই জাহাজগুলো চলাচল করবে। তিনটি জাহাজে মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়া বহন করতে পারে ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলী ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফে আসন রয়েছে ৭১৬ জনের। সময়সূচি অনুযায়ী এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ে সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা করবে।

সংশোধিত সরকারি নির্দেশনা অনুসারে, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াত ও রাত্রিযাপন করার সুযোগ পাবেন। তবে দ্বীপের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক যাওয়ার অনুমতি রাখা হয়েছে। সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে দিতে হবে ১০০ টাকা।

দ্বীপটির সংবেদনশীল পরিবেশ ও বিপন্ন জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। রাতের বেলায় সৈকত কিংবা আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের কৃত্রিম আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম বাজানো এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল ছেঁড়া বা কেনাবেচা পুরোপুরি বারণ। যেকোনো সামুদ্রিক প্রাণী, প্রবাল ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি সৈকতের বালুতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্য কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না।

জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণপ্রেমী পর্যটকদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। তবে একই সঙ্গে দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে সব দর্শনার্থীকে সরকারি বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালনের তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

Share this news as a Photo Card