জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জিহাদ হোসেন হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। এর আগে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। তবে অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় সে সময় তাদের এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে এ মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আনিসুল হক ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় সে সময় এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।
পরে রিমান্ড কার্যকরের জন্য গত ১৪ অক্টোবর আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন। এরপর গত রোববার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর শনিরআখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন জিহাদ হোসেন। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জিহাদের বাবা নুরুল আমিন মোল্লা ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।


























