মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১২:৫৫ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবীর

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শিল্প এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শিল্প খাতের প্রকল্পগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ যেন মসৃণ ও টেকসই হয়, সে বিষয়ে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য জাপানি সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

হুমায়ুন কবীর আরও জানান, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার গতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত চিহ্নিত করা, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপান গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

জাপানের কাছ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা হিসেবে ৫০০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই জাপান সফরকে দেশের জন্য বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সেই আস্থাকে বাস্তবমুখী বিনিয়োগে রূপান্তর করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সফরকালে জাপানের উন্নত জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

27 October 2026

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: মো. তারেক রহমান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবীর

হালনাগাদ সময় : ১১:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শিল্প এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শিল্প খাতের প্রকল্পগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ যেন মসৃণ ও টেকসই হয়, সে বিষয়ে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য জাপানি সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

হুমায়ুন কবীর আরও জানান, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার গতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত চিহ্নিত করা, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপান গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

জাপানের কাছ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা হিসেবে ৫০০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই জাপান সফরকে দেশের জন্য বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সেই আস্থাকে বাস্তবমুখী বিনিয়োগে রূপান্তর করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সফরকালে জাপানের উন্নত জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card