মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:৫২ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বনদস্যুদের গোলাগুলি, ৫ জেলে উদ্ধার

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবনের আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় বনদস্যু দাদা ভাই বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দস্যুদের জিম্মি দশা থেকে পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তবে এই অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের জাহাজ বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ কবীর শামিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীগুলো নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, দাদা ভাই বাহিনী সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় মুক্তিপণের দাবিতে কয়েকজন জেলেকে আটকে রেখেছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৭ অক্টোবর মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকীর একটি যৌথ দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা গুলিবর্ষণ করলে আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের কঠোর প্রতিরোধের মুখে জিম্মি জেলেদের ফেলে রেখে দস্যুরা সুন্দরবনের গহিনের দিকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে দস্যুদের কবলে থাকা পাঁচ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা থানার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা অস্ত্র ও কার্তুজের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিএল: অমিতের জোড়া শতক ও পরানের রেকর্ড ১২ ছক্কায় ঢাকার দুর্দান্ত জয়

27 October 2026

আগামী শনিবার সকাল ১১টায় এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: শিক্ষামন্ত্রী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বনদস্যুদের গোলাগুলি, ৫ জেলে উদ্ধার

হালনাগাদ সময় : ০৯:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনের আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় বনদস্যু দাদা ভাই বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দস্যুদের জিম্মি দশা থেকে পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তবে এই অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের জাহাজ বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ কবীর শামিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীগুলো নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, দাদা ভাই বাহিনী সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় মুক্তিপণের দাবিতে কয়েকজন জেলেকে আটকে রেখেছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৭ অক্টোবর মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকীর একটি যৌথ দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা গুলিবর্ষণ করলে আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের কঠোর প্রতিরোধের মুখে জিম্মি জেলেদের ফেলে রেখে দস্যুরা সুন্দরবনের গহিনের দিকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে দস্যুদের কবলে থাকা পাঁচ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা থানার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা অস্ত্র ও কার্তুজের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

Share this news as a Photo Card