মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:২০ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:২৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাইয়ের দিকে একজন প্রবীণ ব্যক্তি জুতা নিক্ষেপ করেছেন। তবে জুতাটি বিচারপতির বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। সোমবার সকালে এই ঘটনার পরও নির্বিকার থেকে বিচারপতি গাভাই স্বাভাবিকভাবে শুনানি চালিয়ে যান। পরে তিনি বলেছেন, এ ধরনের ঘটনায় তিনি বিন্দুমাত্র প্রভাবিত হন না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবর জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দিনের প্রথম মামলার শুনানি শুরু হতেই ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলতে থাকেন, সনাতনের অপমান ভারত বরদাশত করবে না। এর পরপরই তিনি জুতা নিক্ষেপ করেন। আদালতের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।

জানা গেছে, আটক ব্যক্তির কাছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সহকারীদের জন্য ইস্যু করা একটি প্রক্সিমিটি কার্ড ছিল। কার্ডে তাঁর নাম লেখা ছিল কিশোর রাকেশ। তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে প্রধান বিচারপতি গাভাই রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক আইনজীবী জানান, পুরো ঘটনার সময় বিচারপতি গাভাই সম্পূর্ণ শান্ত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এসব ঘটনায় প্রভাবিত হই না। দয়া করে শুনানি চালিয়ে যান।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ওই আইনজীবীর নাম প্রকাশ করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এটি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি স্পষ্টভাবে জাতিভিত্তিক আক্রমণ বলে মনে হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারকের উচিত যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এমন হামলার নিন্দা করা। আদালতের মর্যাদা রক্ষার মতোই, প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের শান্তভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রশংসনীয়।

এর আগে, খাজুরাহোর বিষ্ণুমূর্তি সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে দেওয়া মন্তব্যের কারণে প্রধান বিচারপতি গাভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। একটি আবেদনের ঘটনায় তিনি বলেছিলেন, ‘দেবতার কাছেই গিয়ে বলুন।’ এই মন্তব্য অনেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখেছিলেন।

পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তাঁর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

এ প্রসঙ্গে আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মন্তব্য করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া এখন নিউটনের সূত্রের চেয়েও তীব্র। প্রত্যেক কাজের প্রতিক্রিয়া এখন সমান নয়, বরং অনেক বেশি। সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, আমরা প্রতিদিনই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন এমন এক বুনো ঘোড়া, যাকে বশ মানানো অসম্ভব।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ: আইএমএফ

27 October 2026

আজ জাতীয় কালো বিড়াল দিবস: কুসংস্কার দূর করে সহমর্মিতার বার্তা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ

হালনাগাদ সময় : ০৫:২৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাইয়ের দিকে একজন প্রবীণ ব্যক্তি জুতা নিক্ষেপ করেছেন। তবে জুতাটি বিচারপতির বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। সোমবার সকালে এই ঘটনার পরও নির্বিকার থেকে বিচারপতি গাভাই স্বাভাবিকভাবে শুনানি চালিয়ে যান। পরে তিনি বলেছেন, এ ধরনের ঘটনায় তিনি বিন্দুমাত্র প্রভাবিত হন না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবর জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দিনের প্রথম মামলার শুনানি শুরু হতেই ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলতে থাকেন, সনাতনের অপমান ভারত বরদাশত করবে না। এর পরপরই তিনি জুতা নিক্ষেপ করেন। আদালতের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।

জানা গেছে, আটক ব্যক্তির কাছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সহকারীদের জন্য ইস্যু করা একটি প্রক্সিমিটি কার্ড ছিল। কার্ডে তাঁর নাম লেখা ছিল কিশোর রাকেশ। তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে প্রধান বিচারপতি গাভাই রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক আইনজীবী জানান, পুরো ঘটনার সময় বিচারপতি গাভাই সম্পূর্ণ শান্ত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এসব ঘটনায় প্রভাবিত হই না। দয়া করে শুনানি চালিয়ে যান।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ওই আইনজীবীর নাম প্রকাশ করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এটি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি স্পষ্টভাবে জাতিভিত্তিক আক্রমণ বলে মনে হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারকের উচিত যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এমন হামলার নিন্দা করা। আদালতের মর্যাদা রক্ষার মতোই, প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের শান্তভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রশংসনীয়।

এর আগে, খাজুরাহোর বিষ্ণুমূর্তি সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে দেওয়া মন্তব্যের কারণে প্রধান বিচারপতি গাভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। একটি আবেদনের ঘটনায় তিনি বলেছিলেন, ‘দেবতার কাছেই গিয়ে বলুন।’ এই মন্তব্য অনেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখেছিলেন।

পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তাঁর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

এ প্রসঙ্গে আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মন্তব্য করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া এখন নিউটনের সূত্রের চেয়েও তীব্র। প্রত্যেক কাজের প্রতিক্রিয়া এখন সমান নয়, বরং অনেক বেশি। সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, আমরা প্রতিদিনই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন এমন এক বুনো ঘোড়া, যাকে বশ মানানো অসম্ভব।

Share this news as a Photo Card