দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন পুষ্টি এবং শিশুর প্রাথমিক বিকাশে সহায়তার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ পরিচালনা করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে এই কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতার পরিমাণ ৮০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত নারী সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত এই সুবিধা পেতে পারেন, যার ফলে পুরো মেয়াদে একজন উপকারভোগী সর্বমোট ৩০ হাজার ৬০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান।
এই সহায়তা পেতে আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। কর্মসূচিটি কেবল প্রথম অথবা দ্বিতীয় গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে কোনো আবেদনের সুযোগ নেই। এছাড়াও আবেদনকারীর নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পারিবারিক আয়ের নির্দিষ্ট সীমা এবং নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত সক্রিয় ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।
অনলাইনে আবেদনের জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের এমআইএস (MIS) পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে আবেদনপত্র দাখিল করা যায়। তবে অনলাইনে আবেদন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতা নিশ্চিত হয় না। প্রাথমিক বাছাই, ডাবল-ডিপিং বা দ্বৈত সুবিধা যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এরপর নির্বাচিতদের নিজস্ব ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভাতার টাকা পৌঁছে যায়। ভুয়া লিংক, ওটিপি (OTP) জালিয়াতি কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে যেকোনো প্রয়োজনে স্থানীয় উপজেলা বা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






















