আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়েও মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা যেন হঠাৎ করেই ফিরে গেছি নব্বইয়ের দশকে। কার্গো প্যান্ট, স্লিপ ড্রেস, মিনিমালিস্ট ফ্যাশন কিংবা কেট মসের পুরোনো স্টাইল—সবকিছুই যেন নতুন করে ফিরে আসছে ট্রেন্ডে। ওসিস ব্যান্ডের কনসার্ট কিংবা পুরোনো গানগুলোর নতুন জনপ্রিয়তা দেখে অবাক হতে হয়। বর্তমান সময়টা ২০২৬ সালের এবং পৃথিবী এখন পুরোপুরি স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যালগরিদমনির্ভর। তবুও এই ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে মানুষ কেন বারবার সেই পুরোনো দশকে ফিরে তাকাতে চায়?
এর প্রধান কারণ সম্ভবত নব্বইয়ের দশকটি ছিল প্রযুক্তি ও বাস্তব জীবনের মধ্যবর্তী এক দারুণ ভারসাম্যের সময়। সেসময় ইন্টারনেট বা মোবাইল ফোন থাকলেও তা আজকের মতো মানুষের জীবনকে গ্রাস করেনি। মানুষ তখন ভার্চুয়াল জগতের চেয়ে বাস্তব জীবনে মেলামেশা করার সুযোগ ও সময় অনেক বেশি পেত। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে নব্বইয়ের দশক ছিল সাদামাটা অথচ অত্যন্ত বিদ্রোহী এক সৃজনশীলতার কাল। আশির দশকের অতিরিক্ত ভোগবাদকে পেছনে ফেলে তরুণেরা গড়ে তুলেছিল এক নতুন সংস্কৃতি, যা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে লন্ডনের টেট ব্রিটেনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে।
আজকের তরুণদের নব্বইয়ের দশকের প্রতি এই আকর্ষণের মূলে শুধু পোশাক বা গান নয়, বরং রয়েছে এক ধরনের মানসিক মুক্তির প্রবল আকাঙ্ক্ষা। মনোবিজ্ঞানী ক্লে রাউটলেজের মতে, এই প্রবণতা কোনো প্রযুক্তিবিরোধিতা নয়, বরং প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আরও অর্থপূর্ণ ও স্বাভাবিক করে তোলার একটি অন্তর্দৃষ্টি। সেকালের মানুষ প্রযুক্তিকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান দেয়নি, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক জীবনবোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।


























