মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:১৪ পূর্বাহ্ন | ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

যে দেশে এখনো চালু রয়েছে ঐতিহ্যবাহী লুনার ক্লক

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মানচিত্রে দেশটির রূপ দেখতে হৃদপিণ্ডের মতো, তাই বিশ্বজুড়ে এটি ‘দ্য হার্ট শেপড ল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত। এই অনন্য দেশটি হলো বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সেখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এক অনুপম সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। অটোমান সাম্রাজ্যের প্রাচ্য রূপ এবং অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান যুগের ইউরোপীয় আধুনিকতা—দুটিই সমানভাবে মিশে রয়েছে দেশটির জনজীবনে।

১৪৬৩ সালে অটোমান বণিকদের মাধ্যমে বসনিয়ায় কফি সংস্কৃতির সূচনা ঘটে। তবে সেখানকার কফি তৈরির নিয়ম প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে খানিকটা ভিন্ন। পানি ভালো করে ফুটিয়ে কফি মেশানো হয়, যার ফলে স্বাদ হয়ে ওঠে বেশ কড়া। ‘জেজভা’ নামের পিতল বা তামার ঐতিহ্যবাহী পাত্রে পরিবেশন করা হয় এই বিশেষ কফি। সারায়েভো শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে এক ঐতিহাসিক ‘সাহাত-কুলা’। এটি বিশ্বের অন্যতম বিরল উন্মুক্ত ‘লুনার ক্লক’ বা চাঁদের গতি অনুযায়ী চলা ঘড়ি। এই ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছোঁয়ার অর্থ হলো সূর্যাস্ত এবং মাগরিবের নামাজের সময় উপস্থিত হওয়া। প্রতিদিন নিয়ম করে একজন ব্যক্তি হাত দিয়ে ঘড়ির সময় ঠিক করে দেন।

লন্ডন বা প্যারিসের মতো আধুনিক মেট্রোপলিটন শহরের বহু আগেই সারায়েভোতে চালু হয়েছিল বিদ্যুৎচালিত ট্রাম সেবা। ১৮৮৫ সালে ঘোড়ায় টানা ট্রামের মাধ্যমে শুরু হলেও ১৮৯৫ সালের মধ্যেই তা পুরোপুরি বৈদ্যুতিক রূপ পায়। এছাড়া দেশটির সমুদ্র উপকূলভাগ মাত্র ২০ কিলোমিটার, যা মোনাকোর পর বিশ্বে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম উপকূলরেখা হিসেবে পরিচিত। জটিল রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নিয়ে টিকে থাকা এই দেশ বিশ্বের অন্যতম এক আকর্ষণীয় ভূখণ্ড।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

এমবাপের জোড়া গোলে এল ক্লাসিকোয় বার্সার অপরাজেয় যাত্রা থামাল রিয়াল

25 October 2026

৪৫তম বিসিএস: বিসিএস প্রশাসনে সহকারী কমিশনার পদে ২৬৬ জনের নিয়োগ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

যে দেশে এখনো চালু রয়েছে ঐতিহ্যবাহী লুনার ক্লক

হালনাগাদ সময় : ১০:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মানচিত্রে দেশটির রূপ দেখতে হৃদপিণ্ডের মতো, তাই বিশ্বজুড়ে এটি ‘দ্য হার্ট শেপড ল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত। এই অনন্য দেশটি হলো বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সেখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এক অনুপম সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। অটোমান সাম্রাজ্যের প্রাচ্য রূপ এবং অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান যুগের ইউরোপীয় আধুনিকতা—দুটিই সমানভাবে মিশে রয়েছে দেশটির জনজীবনে।

১৪৬৩ সালে অটোমান বণিকদের মাধ্যমে বসনিয়ায় কফি সংস্কৃতির সূচনা ঘটে। তবে সেখানকার কফি তৈরির নিয়ম প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে খানিকটা ভিন্ন। পানি ভালো করে ফুটিয়ে কফি মেশানো হয়, যার ফলে স্বাদ হয়ে ওঠে বেশ কড়া। ‘জেজভা’ নামের পিতল বা তামার ঐতিহ্যবাহী পাত্রে পরিবেশন করা হয় এই বিশেষ কফি। সারায়েভো শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে এক ঐতিহাসিক ‘সাহাত-কুলা’। এটি বিশ্বের অন্যতম বিরল উন্মুক্ত ‘লুনার ক্লক’ বা চাঁদের গতি অনুযায়ী চলা ঘড়ি। এই ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছোঁয়ার অর্থ হলো সূর্যাস্ত এবং মাগরিবের নামাজের সময় উপস্থিত হওয়া। প্রতিদিন নিয়ম করে একজন ব্যক্তি হাত দিয়ে ঘড়ির সময় ঠিক করে দেন।

লন্ডন বা প্যারিসের মতো আধুনিক মেট্রোপলিটন শহরের বহু আগেই সারায়েভোতে চালু হয়েছিল বিদ্যুৎচালিত ট্রাম সেবা। ১৮৮৫ সালে ঘোড়ায় টানা ট্রামের মাধ্যমে শুরু হলেও ১৮৯৫ সালের মধ্যেই তা পুরোপুরি বৈদ্যুতিক রূপ পায়। এছাড়া দেশটির সমুদ্র উপকূলভাগ মাত্র ২০ কিলোমিটার, যা মোনাকোর পর বিশ্বে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম উপকূলরেখা হিসেবে পরিচিত। জটিল রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নিয়ে টিকে থাকা এই দেশ বিশ্বের অন্যতম এক আকর্ষণীয় ভূখণ্ড।

Share this news as a Photo Card