মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:২১ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশে; চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

দেশে আবারও সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রকাশিত কনজুমার প্রাইস ইনডেক্স প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা অক্টোবর মাসে ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও এই বৃদ্ধি লক্ষ্যণীয়। নভেম্বর মাসে এটি বেড়ে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ হয়েছে, যেখানে তার আগের মাসে তা ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ হয়েছে, যা অক্টোবর মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ওঠানামার মধ্যে থাকলেও এটি ৮ শতাংশের ঘরেই ঘোরাফেরা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে গত তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

মজুরি বৃদ্ধি বনাম মূল্যস্ফীতি

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ গত দুই-তিন বছর ধরে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এনবিআর তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ককর কমালেও এবং বাজারে আমদানির প্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রমগুলোর প্রভাব তেমন দৃশ্যমান হচ্ছে না।

গ্রাম ও শহরের চিত্র

নভেম্বর মাসে গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে:

  • গ্রামে: সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে (অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ)। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে (অক্টোবরে ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ)। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছে।
  • শহরে: সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছে (অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ)। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে (অক্টোবরে ছিল ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ)। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: হুমায়ুন কবীর

28 October 2026

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, ফল মেনে নেব: বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশে; চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি

হালনাগাদ সময় : ০৯:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশে আবারও সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রকাশিত কনজুমার প্রাইস ইনডেক্স প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা অক্টোবর মাসে ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও এই বৃদ্ধি লক্ষ্যণীয়। নভেম্বর মাসে এটি বেড়ে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ হয়েছে, যেখানে তার আগের মাসে তা ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ হয়েছে, যা অক্টোবর মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ওঠানামার মধ্যে থাকলেও এটি ৮ শতাংশের ঘরেই ঘোরাফেরা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে গত তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

মজুরি বৃদ্ধি বনাম মূল্যস্ফীতি

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ গত দুই-তিন বছর ধরে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এনবিআর তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ককর কমালেও এবং বাজারে আমদানির প্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রমগুলোর প্রভাব তেমন দৃশ্যমান হচ্ছে না।

গ্রাম ও শহরের চিত্র

নভেম্বর মাসে গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে:

  • গ্রামে: সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে (অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ)। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে (অক্টোবরে ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ)। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছে।
  • শহরে: সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছে (অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ)। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে (অক্টোবরে ছিল ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ)। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ হয়েছে।

Share this news as a Photo Card