শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান। শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাক শিল্প ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টাই বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। রোববার সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
ডিআইজি বলেন, আপনারা নিজেরাও ঘুরছেন, দেখছেন যে এই মুহূর্তে আমাদের সাভার, আশুলিয়া ও রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে আমি বলব যে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ কোথাও নেগেটিভ কোনো কিছু শোনা যায়নি। ফ্যাক্টরিতে ঢুকে যথারীতি শ্রমিক তাদের কাজকর্ম অব্যাহত রেখেছে। আপনারা জানেন যে আমাদের মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে এই মাসের ১ তারিখে। এরপর মজুরি বোর্ড প্রথম বৈঠক করে তাদের ব্রিফ করেছে। শ্রমিকদের নিয়ে আমরা সাভার-আশুলিয়া এলাকায় বসছিলাম। তারা বলছে, এই আন্দোলন তো আসলে তাদের না। কারণ তাদের যে দাবি ছিল সেগুলির প্রতি সরকার অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকদের বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সরকার চিন্তা করে। শ্রমিক যদি কাজ করে ও তাদের যদি একাত্মতা ঘোষণা না থাকে তাহলে এটা আসলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী একটি গোষ্ঠীর অশুভ পায়তারা।
গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, শ্রমিক যেহেতু সেনসিটিভ বিষয়, তাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। যারা পরিবেশ অশান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় প্রায় ১৫টি মামলা রুজু হয়েছে ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই এলাকায় আমাদের প্রায় শতাধিক গ্রেপ্তার আছে। কিন্তু গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কেউই শ্রমিক না সবাই ক্রাইসিস সৃষ্টিকারী। এছাড়া গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের কথা বলব, সেখানেও আমরা শতাধিক গ্রেপ্তার করেছি। সেখানেও একই অবস্থা গ্রেপ্তারদের মধ্যে শ্রমিক নেই। এরা সবাই অস্থিতিশীল সৃষ্টিকারী বিশেষ গোষ্ঠী, যারা এই শিল্পকে ধ্বংস করতে চায় এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল রাখতে চায়।
কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিআইজি বলেন, আমাদের ইন্টেলিজেন্স পুলিশ ও পোশাকে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে, কারা এটা করছে তা আমাদের জানা এবং তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন চলছে। শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান যেহেতু আপনাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তারা এটা করছে। তাই এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে। ফ্যাক্টরি, বাসস্থান ও রাস্তায় পুলিশ সবসময় আপনাদের পাশে আছে। কারখানা এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর সাপ্তাহিক ছুটি শেষে সকাল থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎপাদনে যোগ দেন শ্রমিকরা। সকাল থেকেই কর্মস্থলে প্রবেশ করে নিজ নিজ ইউনিটে কাজ শুরু করেন তাঁরা।























