মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:৩৯ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না, মুখোমুখি হবেন ন্যায়বিচারের: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

  • হালনাগাদ সময় : ০২:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতির শিকার হতে দেওয়া হবে না, বরং সরাসরি আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ বা দণ্ড রয়েছে, তা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়াতেই বাস্তবায়িত হবে এবং সরকার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ কাউকে দেবে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য গুঞ্জন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা খোলামেলা সুরে বলেন, “আমরা যাকে বিচারের জন্য চাই, তিনি যদি নিজেই ফিরে আসেন, তাতে তো সমস্যা নেই। আমাদের আর ধরে-বেঁধে আনতে হলো না। উনি আসবেন এবং যথারীতি বিচারের মুখোমুখি হবেন। উনি তো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি আসার পর প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় যা যা হওয়ার, ঠিক তা-ই ঘটবে।”

দেশে ফেরার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে বারবার আলোচনা তোলা অর্থহীন উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ধরে এগোলে এ নিয়ে মাসের পর মাস কেবল ভিত্তিহীন জল্পনা-কল্পনাই চলবে। ডিসেম্বর বা জুনের মতো সম্ভাব্য তারিখ ধরে আলোচনা শুরু হলে নির্দিষ্ট সময়ে তা না ঘটলে পুনরায় নতুন সময় নিয়ে অযথা বিতর্ক দানা বাঁধবে।

শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের বহিঃপ্রকাশ কখনোই রাস্তায় বা বেআইনিভাবে হতে পারে না; তা হতে হবে একমাত্র স্বচ্ছ আদালতের রায়ের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে তিনি নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক অবস্থানের উদাহরণ টেনে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এরশাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি মন্ত্রিসভাসহ দেশেই ছিলেন, জেলে গেছেন এবং পরবর্তীতে জেলে থেকেই পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এমনকি তাঁর দল ৩৫টি আসন পেয়েছিল। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও দেশে ফিরলে সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে সিপিবির কার্যালয়ে হামলাসহ সাম্প্রতিক অপরাধ প্রতিরোধে সরকারের আগাম পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো অপরাধ ঘটার আগেই তা ঠেকানোর জন্য সরকারের নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পেশাদার গোয়েন্দা কাঠামো কাজ করে যাচ্ছে। বহু অপরাধ ঘটনার আগেই পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘ অস্থিতিশীলতার পর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। এই রূপান্তরকালে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও সরকার সেখানে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, সেটিই প্রধান বিবেচ্য।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা খারিজ করে দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই অফিশিয়াল ঘোষণা ছাড়া এ নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা বা জল্পনা-কল্পনা না করাই শ্রেয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি গঠিত: সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

27 October 2026

সৈয়দপুরে সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির তোড়জোড়, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে কার্যক্রম স্থগিত

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না, মুখোমুখি হবেন ন্যায়বিচারের: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

হালনাগাদ সময় : ০২:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতির শিকার হতে দেওয়া হবে না, বরং সরাসরি আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ বা দণ্ড রয়েছে, তা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়াতেই বাস্তবায়িত হবে এবং সরকার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ কাউকে দেবে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য গুঞ্জন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা খোলামেলা সুরে বলেন, “আমরা যাকে বিচারের জন্য চাই, তিনি যদি নিজেই ফিরে আসেন, তাতে তো সমস্যা নেই। আমাদের আর ধরে-বেঁধে আনতে হলো না। উনি আসবেন এবং যথারীতি বিচারের মুখোমুখি হবেন। উনি তো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি আসার পর প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় যা যা হওয়ার, ঠিক তা-ই ঘটবে।”

দেশে ফেরার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে বারবার আলোচনা তোলা অর্থহীন উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ধরে এগোলে এ নিয়ে মাসের পর মাস কেবল ভিত্তিহীন জল্পনা-কল্পনাই চলবে। ডিসেম্বর বা জুনের মতো সম্ভাব্য তারিখ ধরে আলোচনা শুরু হলে নির্দিষ্ট সময়ে তা না ঘটলে পুনরায় নতুন সময় নিয়ে অযথা বিতর্ক দানা বাঁধবে।

শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের বহিঃপ্রকাশ কখনোই রাস্তায় বা বেআইনিভাবে হতে পারে না; তা হতে হবে একমাত্র স্বচ্ছ আদালতের রায়ের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে তিনি নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক অবস্থানের উদাহরণ টেনে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এরশাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি মন্ত্রিসভাসহ দেশেই ছিলেন, জেলে গেছেন এবং পরবর্তীতে জেলে থেকেই পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এমনকি তাঁর দল ৩৫টি আসন পেয়েছিল। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও দেশে ফিরলে সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে সিপিবির কার্যালয়ে হামলাসহ সাম্প্রতিক অপরাধ প্রতিরোধে সরকারের আগাম পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো অপরাধ ঘটার আগেই তা ঠেকানোর জন্য সরকারের নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পেশাদার গোয়েন্দা কাঠামো কাজ করে যাচ্ছে। বহু অপরাধ ঘটনার আগেই পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘ অস্থিতিশীলতার পর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। এই রূপান্তরকালে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও সরকার সেখানে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, সেটিই প্রধান বিবেচ্য।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা খারিজ করে দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই অফিশিয়াল ঘোষণা ছাড়া এ নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা বা জল্পনা-কল্পনা না করাই শ্রেয়।

Share this news as a Photo Card