মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১২:৫৯ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্ব হোক যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৪৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বকে কেবল সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে’ পরিণত করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে দেশটির শীর্ষ বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, উৎপাদনশীল শিল্পে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক সমন্বিত ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—দুই দেশের পরীক্ষিত বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।”

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরপরই যেসব দেশ প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল তাদের মধ্যে জাপান অন্যতম—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা অকৃত্রিম বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক গভীর শ্রদ্ধার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব। এখন সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে আরও অনন্য ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার। এ লক্ষ্যে তিনি জাপানের শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ১২টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠকের সমাপ্তির পরপরই দুই দেশের সরকারপ্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী উপস্থিত সাংবাদিকদের জাপানি ভাষায় ‘কোন্নিচিওয়া’ (শুভ অপরাহ্ন) সম্ভাষণ জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন।

বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), আধুনিক রেল ব্যবস্থা, মেগা অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

সফরটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) বিনিময় হয়েছে। শীর্ষ আলোচনার যৌথ অগ্রাধিকার ও সার্বিক ফলাফল শিগগিরই একটি যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

বক্তব্য শেষে উপস্থিত সবাইকে জাপানি সংস্কৃতিতে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আরিগাতো গোজাইমাসু’ (আপনাকে অনেক ধন্যবাদ) বলে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রচারণার সময় শেষ, ঠাকুরগাঁও-০১ আসনে এখন ভোটের অপেক্ষা

27 October 2026

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বন্ধ থাকবে ব্যাংক

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্ব হোক যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হালনাগাদ সময় : ১০:৪৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বকে কেবল সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে’ পরিণত করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে দেশটির শীর্ষ বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, উৎপাদনশীল শিল্পে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক সমন্বিত ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—দুই দেশের পরীক্ষিত বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।”

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরপরই যেসব দেশ প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল তাদের মধ্যে জাপান অন্যতম—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা অকৃত্রিম বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক গভীর শ্রদ্ধার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব। এখন সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে আরও অনন্য ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার। এ লক্ষ্যে তিনি জাপানের শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ১২টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠকের সমাপ্তির পরপরই দুই দেশের সরকারপ্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী উপস্থিত সাংবাদিকদের জাপানি ভাষায় ‘কোন্নিচিওয়া’ (শুভ অপরাহ্ন) সম্ভাষণ জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন।

বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), আধুনিক রেল ব্যবস্থা, মেগা অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

সফরটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) বিনিময় হয়েছে। শীর্ষ আলোচনার যৌথ অগ্রাধিকার ও সার্বিক ফলাফল শিগগিরই একটি যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

বক্তব্য শেষে উপস্থিত সবাইকে জাপানি সংস্কৃতিতে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আরিগাতো গোজাইমাসু’ (আপনাকে অনেক ধন্যবাদ) বলে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

Share this news as a Photo Card