বিশ্বখ্যাত ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের অমর সৃষ্টি ‘দ্য স্টারি নাইট’ চিত্রকর্মে আঁকা তারাগুচ্ছের নতুন পরিচয় উন্মোচন করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা নক্ষত্রগুলো মেষ (এরিস) রাশির নয়, বরং বৃষ (টরাস) নক্ষত্রমণ্ডলের অন্তর্গত ‘হায়াডিস’ তারাগুচ্ছ। নতুন এই আবিষ্কারের ফলে চিত্রকর্মটি আঁকার সময়কাল নিয়ে শিল্প-ইতিহাসবিদদের দীর্ঘদিনের ধারণায় পরিবর্তন আসতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৮৮৯ সালের ২২ জুলাই রাতের আকাশে হায়াডিস তারাগুচ্ছের যে বাস্তব অবস্থান ছিল, ছবিতে থাকা তারার বিন্যাসের সঙ্গে তার গভীর মিল পাওয়া গেছে। এতদিন মনে করা হতো, ফ্রান্সের সাঁ-রেমি-দ্য-প্রোভঁসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮৮৯ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই ছবি এঁকেছিলেন ভ্যান গগ। চিত্রকর্মটি বর্তমানে নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে সংরক্ষিত রয়েছে।
গবেষক দলের প্রধান ও মহাকাশ গবেষক এলিয়াহ জিয়ং-হিউন কিম জানান, ছবির মাঝখানের তারাগুচ্ছটি প্রথম থেকেই তাঁর কাছে বৃষ রাশির হায়াডিস বলে মনে হয়েছিল, যদিও পূর্ববর্তী গবেষণায় একে মেষ রাশি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘প্রোক্রাস্টিস’ নামের একটি আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারার আকার বা রঙের বাইরে গিয়ে কেবল অবস্থান ও বিন্যাস বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ছবির পাঁচটি তারার সঙ্গে হায়াডিসের পাঁচটি তারার জোরালো মিল পাওয়া যায়।
পদ্ধতির সত্যতা যাচাইয়ে ভ্যান গগের অপর বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘স্টারি নাইট ওভার দ্য রোন’-এর তারার বিন্যাসও বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে বাস্তব সপ্তর্ষিমণ্ডলের সঙ্গে ছবির তারার হুবহু মিল মেলে। গবেষকদের মতে, ১৮৮৯ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে চাঁদের যে দশা ও আকাশের যে নক্ষত্রবিন্যাস ছিল, তার ওপর ভিত্তি করে হয়তো শিল্পী একাধিক ধাপে ছবিটি সম্পন্ন করেছিলেন।


























